আবার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ

আবার সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ

235
0
SHARE

সরকারের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ের আগে প্রতিবারই সিএনজিচালিত অটোরিকশা নীতিমালা অনুযায়ী চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয় মালিক সমিতি। সুবিধা আদায়ের পর প্রতিবারই তারা এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে উদ্যোগী হতে খুব একটা দেখা যায়নি।

এবার অটোরিকশার আয়ুষ্কাল আরও বাড়ানো নিয়ে দেনদরবার চলার সময় খোদ মালিক সমিতিই সরকার নির্ধারিত জমা ও ভাড়া মেনে চলার ঘোষণা দেয়। কিন্তু লোক দেখানো ঘোষণার পর তা আর মানছেন না মালিক-শ্রমিকেরা। এ ক্ষেত্রেও সেই পুরোনো খেলা—পরস্পরকে দুষছেন মালিক ও শ্রমিকেরা।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, যাত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক যেকোনো জায়গায় যেতে বাধ্য থাকবেন এবং মিটার অনুযায়ী ভাড়া নেবেন। কিন্তু বাস্তবে হয় ঠিক উল্টোটা।

গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ নম্বর ফটকের সামনে অটোরিকশা ঠিক করছিলেন এক রোগীর স্বজন। ফার্মগেটে যাবেন তিনি। কিন্তু অল্প দূরত্ব বলে কোনো চালক যেতে রাজি হননি। মোহাম্মদপুর যেতে আরেক চালকের সঙ্গে কথা বলছিলেন অন্য আরেক রোগীর স্বজন। প্রথমে ওই চালক ২৫০ টাকা ভাড়া হাঁকেন। পরে মিটারে যেতে চাইলে চালক ৩০ টাকা অতিরিক্ত দাবি করেন। মিটারে চলতে মালিক সমিতির নির্দেশনার কথা উল্লেখ করলে এই অটোরিকশাচালক বলেন, ঘোষণা দিয়েই তো শেষ, এখনো মালিকেরা ১ হাজার ১০০ টাকা করে জমা নিচ্ছেন। সরকারি নির্ধারিত জমা ৯০০ টাকা।

শাহবাগ ছাড়াও মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজার এলাকার অন্তত ৩০ জন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র পাওয়া গেছে।

চালকদের কাছে যাত্রীদের এই জিম্মিদশা গত ১৫ বছরের। এমন অবস্থাতেই অটোরিকশাগুলোর আয়ুষ্কাল ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২১ বছর করার দাবি জানাচ্ছে মালিক সমিতি। এতে অটোরিকশা খাত নিয়ে সাধারণ মানুষের নানামুখী সমালোচনা আবার সামনে আসে। গত ২৫ নভেম্বর মগবাজারে জরুরি সভা করেন মালিক সমিতির নেতারা। পরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্যাডে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাঁরা এখন চালকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত জমা ৯০০ টাকাই নেবেন। তাই কোনো চালক যাত্রীর কাছ থেকে মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবেন না। চালক যাত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণও করতে পারবেন না। যেকোনো দূরত্বে যেতে বাধ্য থাকবেন। ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন করে এটা কার্যকর করা হবে। নির্দেশনা না মানলে মালিক-চালক উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক বরকত উল্লাহ। মালিকেরা অতিরিক্ত জমা আদায় করলে তিনি চালকদের মালিক সমিতির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়ারও পরামর্শ দেন।

এই নির্দেশনা কি মালিকেরা মানছেন? জানতে চাইলে গতকাল বরকত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, এখনো সবাই মানছেন না। ধীরে ধীরে নির্দেশনা কার্যকর হবে। এ জন্য প্রচারপত্রও বিলি করা হবে। গত পাঁচ দিনে কোনো চালক সমিতির কাছে অতিরিক্ত জমা আদায়ের অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজনও অভিযোগ করেননি।

চালকেরা মিটারে না যেতে চাইলে যাত্রীদের করণীয় সম্পর্ক অটোরিকশার মালিকদের এই শীর্ষ নেতা বলেন, অনলাইনে যাত্রীদের অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে অভিযোগ করতে হবে। বিআরটিএ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চালক-মালিক উভয়ের বিরুদ্ধেই হার্ড লাইনে, কারও পক্ষে আমরা নই।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY