ঈদে বাড়ি যাওয়াটা উপভোগ করি

ঈদে বাড়ি যাওয়াটা উপভোগ করি

106
0
SHARE

সব সময় বাড়িতেই ঈদ করা হয়। অনেক বন্ধু আমাকে বলে, অন্তত একটা ঈদ ঢাকায় করো। অনেক সময় চাইলেও বাড়িতে ঈদ করার উপায় থাকে না অনেকের। আমার সৌভাগ্য, এমন কোনো সমস্যা নেই। প্রতিবছর ঈদ উদ্‌যাপন করতে বাড়ি যেতে পারি।
আমাদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। আমাদের সবাই সেখানে থাকে। তবে খেলোয়াড়িজীবনে খেলার জন্য অনেক সময় বাড়িতে যাওয়া কঠিন হয়েছে। তখন এক বেলার জন্য হলেও ঈদ করতে বাড়ি গেছি। এটা ঠিক, প্রায় প্রতিবারই ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে একটা বিড়ম্বনা হয়ে থাকে। তবে এই বিড়ম্বনাও আমি উপভোগ করি! বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ নেই। স্কুল ছুটি হলেই বাচ্চাদের নিয়ে আমার স্ত্রী কুষ্টিয়ায় চলে যায়। আমি যাই সাধারণত ঈদের দুই-তিন দিন আগে।
আমাদের যৌথ পরিবার। ছয় ভাই, দুই বোন আমরা। ছোট বোন আর সেজ ভাই থাকে দেশের বাইরে। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে কুষ্টিয়ায়। অন্য পাঁচ ভাইয়ের একই বাড়িতে থাকা হয়। আমরা নামাজ পড়তে যাই ১০-১৫ জন একসঙ্গে। কুষ্টিয়া শহরেও অনেক আত্মীয়স্বজন থাকে। ঈদের দিনে সবাই আমাদের বাড়িতে আসে। সব মিলিয়ে ঈদে অফুরন্ত মজা হয়।
ঈদের মজাটা শুরু হয় চাঁদরাত থেকেই। বাচ্চারা বাজি-পটকা ফোটাতে থাকে। আতশবাজি-মোমবাতি জ্বালায়। সব ভাইবোন মিলিয়ে আমাদের পরিবারে ১২টা বাচ্চা। তাদের এই হইচই উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। ঈদের আগের রাতে বাসার ছাদে জমাট আড্ডা হয়। সেই আড্ডা শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে যায়। একটা সময় বড় ভাইয়েরা তাড়া দেন, তাতে আড্ডা ভাঙে।
গভীর রাতে ঘুমাতে যাওয়ায় ঈদের সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে ভীষণ কষ্ট হয়। সবাই দ্রুত তৈরি হতে পারলেও আমার একটু দেরি হয়। বাড়ির ছোট ছেলে হিসেবে আগে আমার কাঁধেই থাকত জায়নামাজ নেওয়ার ভার। সেই ভার এখন নিয়েছে ভাইদের ছেলেরা। বিরাট একটা দল হয়ে আমরা যাই ঈদগাহে।
ঈদের দিনে আলাদাভাবে খুব একটা ঘোরাঘুরি হয় না, যা করি একসঙ্গেই। ঈদগাহ থেকে ফিরে নাশতা করি একসঙ্গে। আমাদের নাশতার টেবিলও অনেক বড়। ১০-১৫ জন মিলে একসঙ্গে নাশতা করি। সারা দিন অনেক আত্মীয়স্বজন আসে। পরিবার আর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দিনটা কেটে যায় দারুণ। কখনো বাইরে গেলেও আত্মীয়স্বজনের বাসাতেই যাওয়া হয়।
ঈদ উপলক্ষে উপহার দেওয়া বা পাওয়ার রীতি আছে আমাদের। উপহার দেওয়ার দায়িত্বটা স্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া। ঈদের ১৫-২০ দিন আগে থেকে শুরু হয় ওর উপহার কেনা। ৫ ভাবি, ১০ বাচ্চা, আব্বা-আম্মা—সবার জন্যই সে কেনে। আমার বাচ্চারা উপহার পায় ভাবিদের কাছ থেকে। উপহার সবচেয়ে কম পায় কে জানেন? আমি!
খেলার জন্য কয়েকটা ঈদ দেশের বাইরে করতে হয়েছে। দেশের বাইরে ঈদ করার অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো নয়। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে আমার প্রথম বিদেশে ঈদ। পরিবারের বাইরে প্রথম ঈদ করছি, মনটা ভীষণ খারাপ ছিল। একবার ঈদের দিন ম্যাচ ছিল। নামাজ পড়তে সেবার নামিবিয়ার সঙ্গে ম্যাচটা এক ঘণ্টা পিছিয়েছিলাম। তবে আমার জীবনে বিষাদের এক ঈদ গেছে ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০০৩ বিশ্বকাপে ঈদের আগের দিন হেরে গেলাম কানাডার কাছে। মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত ছিলাম যে পরদিন সকালে নামাজও পড়তে যাইনি! রাতে আমার ভাই ফোন করে অনেক বকাবকি করলেন। বললেন, ‘তোদের জন্য আমরা ঈদ করতে পারিনি! সবাই গালি দিচ্ছে!’ দেশের বাইরের ঈদকে আসলে ঈদ মনে হয় না। অনুশীলন থাকে, খেলা নিয়ে ব্যস্ততা থাকে। সবাই মিলে শুধু নামাজ পড়া হয় আর কোথাও দল বেঁধে খেতে যাওয়া হয়।
নিজের কাছে উৎসবের রং সব সময়ই এক থাকে না। তবে আমার ঈদ উদ্‌যাপনে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। আগেও যেমন পরিবারকে নিয়ে উদ্‌যাপন করতাম, এখনো তা-ই। পার্থক্য এতটুকুই, আগে বন্ধুদের সঙ্গে অনেক আড্ডা দিতাম, এখন সেটা কম; বেশি সময় দিই পরিবারকেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY