উড়ালসড়কের নিচে ও রাস্তায় পার্কিং

উড়ালসড়কের নিচে ও রাস্তায় পার্কিং

194
0
SHARE

মালিবাগ-মৌচাক উড়ালসড়কের নিচের রাস্তায়ও গাড়ি পার্কিং শুরু হয়ে গেছে। যাত্রাবাড়ীতে মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের নিচে পার্কিংসহ অন্যান্য দখল নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি চলে আসছে। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হলো মালিবাগ-মৌচাক উড়ালসড়ক।

ব্যতিক্রম হলো এই উড়ালসড়কের নিচে শতাধিক গাড়ি পার্ক করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা বা সিআইডি ও বিশেষ শাখা বা এসবি। এতে মালিবাগ মোড় থেকে শান্তিনগরের দিকে যেতে রাস্তার বেশ খানিকটা অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। রাজধানীর অন্যতম যানজটপ্রবণ এলাকাটিকে যানজটমুক্ত করতে উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হয়। পরিকল্পনা ও নকশায় ত্রুটির কারণে উড়ালসড়কটিতেই দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট লেগে থাকে। এখন পার্কিংয়ের কারণে নিচের রাস্তায়ও যানজট লেগে থাকছে।

  মালিবাগ মোড় পেরিয়ে শান্তিনগরের দিকে খানিক এগোলেই সিআইডি ও এসবির সদর দপ্তর। মূলত এই দুটি দপ্তর এবং দপ্তরে আসা বিভিন্ন যানবাহন রাখা হচ্ছে সড়কের ওপর।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, মালিবাগ মোড়ের হোসাফ টাওয়ারের উল্টো পাশে অবস্থিত পেট্রলপাম্পের শুরু থেকেই সড়কের দুই পাশে পুলিশ সদস্যদের বহনকারী তিনটি বাস, চারটি টহল গাড়ি এবং পুলিশ ও সিআইডির স্টিকার লাগানো অন্তত ২০টি কার ও জিপ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এসব গাড়ির কারণে দুই পাশ থেকে সংকুচিত হয়ে আসা এই সড়ক দিয়ে মালিবাগ মোড় ঘুরে শান্তিনগরের দিকে যাওয়া বড় যাত্রীবাহী বাসগুলোকে বেগ পেতে হচ্ছে। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে উড়ালসড়কের যে র‍্যাম্পটি শান্তিনগরে নেমেছে তার আগ পর্যন্ত। ওদিক থেকে ঘুরে আবার মালিবাগ মোড়ের দিকে আসতে দেখা গেল একই চিত্র। সড়কের এ অংশেও দুই পাশে দুটি বাসসহ ১৫টির মতো বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা। আর র‌্যাম্পের একেবারে নিচে রাখা গাড়ির সংখ্যা ৫০টির বেশি। এই অংশে শিকল দিয়ে পার্কিংয়ের জায়গাটি আলাদাভাবে চিহ্নিত করা।

সড়কের ওপর রাখা এসব গাড়ির কারণে যানজট বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন এই পথে চলাচলকারী কয়েকটি পরিবহনের চালকেরা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। বলাকা পরিবহনের এক চালক বলেন, ‘শান্তিনগর সিগন্যাল পার হইলাম তো এইখানে আইসা আবার আটকায়া থাকন লাগে। আর মগবাজারের দিক থেইক্যা আসনের সময় গাড়ি ঘুরাইতেই সমস্যা হয়্যা যায়।’

সিআইডি সদর দপ্তরসংলগ্ন টুইন টাওয়ারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ফ্লাইওভারের জন্য এমনিতেই রাস্তা সরু হয়ে গেছে। তার ওপর এই সরু রাস্তায় সারা দিন এতগুলো গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যানজট হওয়াই তো স্বাভাবিক।’

এ ছাড়া র‍্যাম্পের নিচে গাড়িগুলো রাখার ও বের করার সময়ও স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার কথা জানান অনেকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘র‍্যাম্পের নিচের অংশটি পার্কিংয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে কিছুদিন আগে একটি আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। অন্য উড়ালসড়কের র‍্যাম্পগুলো পার্কিংয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার একটি পরিকল্পনাও আমাদের আছে।’

তবে মূল সড়ক দখল করে গাড়ি রাখার বিষয়ে কামরুল ইসলাম চৌধুরীর বক্তব্য, এটার অনুমোদন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যেকোনো বিচারে এটা অবৈধ।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগ) রিফাত রহমানের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এটা নিয়ে টেলিফোনে কিছু বলতে পারব না। আপনি আমার কার্যালয়ে আসেন। কী কারণে, কোন বাস্তবতায় গাড়িগুলো রাস্তায় রাখা হচ্ছে, সেটা বুঝিয়ে বলা যাবে।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY