গ্রামে গ্রামে ধ্বংসের চিহ্ন

গ্রামে গ্রামে ধ্বংসের চিহ্ন

46
0
SHARE

দিনাজপুরের পূর্বের উপজেলা বিরল। এই উপজেলায় রয়েছে ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন। আদমশুমারির হিসাবমতে, ২ লাখ ৫৭ হাজার লোকের বসবাস। মাটির তৈরি বাড়ি এই উপজেলার ঐতিহ্য। উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পুনর্ভবা নদী। উপজেলার উত্তরে আজিমপুর ইউনিয়ন এলাকায় পুনর্ভবা নদী থেকে আলাদা হয়ে তুলাই নামের একটি শাখা নদী উত্তর-পশ্চিম দিকে মঙ্গলপুর ইউনিয়ন, পশ্চিমের শহরগ্রাম ইউনিয়ন হয়ে বিরল সদর দিয়ে ভান্ডারা ইউনিয়ন হয়ে ভারতে গেছে।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এই দুই নদী প্লাবিত হয়ে ও পুনর্ভবা নদী রক্ষা বাঁধের বনগাঁও এবং রাজারামপুরে দুটি স্থান ভেঙে ধ্বংসের চিহ্ন রেখে গেছে এবারের বন্যা। ভেঙে গেছে অধিকাংশ মাটির বাড়িঘর, রাস্তা। গ্রামের পর গ্রাম যেন ধ্বংসস্তূপ।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে মঙ্গলপুর ও ধামইর ইউনিয়ন আংশিক এবং বাকি ১০টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় উপজেলার ৩১ হাজার ৭৫০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১২ হাজার ৮০০ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ২০ হাজার ২০০টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৭ হাজার ৫০০টি। বন্যায় তলিয়ে যায় ২২ হাজার ২১০ হেক্টর জমির ফসল। পাকা সড়ক ৩০ কিলোমিটার এবং ৭৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৮ কিলোমিটার সড়ক।

গতকাল বৃহস্পতিবার পলাশবাড়ি, বিজোড়া, ধর্মপুর, রানীপুকুর, ফরক্কাবাদ, আজিমপুর ও রাজারামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাটির বাড়ি ধসে গেছে। দুর্গত লোকজন কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে, কেউ বাঁধে; আবার কেউ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পাকা রাস্তাগুলো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত, কাঁচা সড়কগুলো হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বুধবারের আগে পাননি কোনো ত্রাণ। ঘরবাড়ি ধসে যাওয়ায় কবে মিলবে মাথা গোঁজার ঠাঁই, সেই চিন্তায় দিশেহারা তাঁরা।

দুপুরে পলাশবাড়ি ইউনিয়নের শাকইর আদিবাসীপাড়ায় গেলে পারগানা প্রদীপ মুর্মু জানান, ওই গ্রামের ৬৪টি বাড়ির মধ্যে ৫০টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কেউ বাঁধে, কেউ গির্জায় আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামের রেবেকা চঁড়ে বলেন, ‘হারা তো মানসের বাড়িত কাম করে কোন রকমে বাঁচি আছোনো। এখন কেঙ্কেরে কী করমো। কোটে থাকমো।’ সুমতি টুডু বলেন, ‘বানোত এলায় সব ডুবি গেল। এখন হারা কী করমো। কী হবি হামার। কেউ তো কিছু আয়না।’

পার্শ্ববর্তী শাকইর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৩৫টি বাড়ির মধ্যে ৩০টিই ধসে গেছে। বুজরুক বসন্তপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, ওই গ্রামের বেশির ভাগ লোক বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। পলিথিন ও টিনের তৈরি ঘরে বসবাস করছেন। শফিকুল, রায়হান, আমিনুল ইসলাম জানান, গত শনিবার থেকে গ্রামের প্রায় ৩০০ মানুষ এখানে বসবাস করছেন।

বিরল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশীদ গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে  বলেন, বিরলের ঐতিহ্য মাটির বাড়ি। উপজেলার মোট মাটির বাড়ির ৯০ ভাগই ধসে গেছে। ধসে যাওয়া বাড়িগুলোর বেশির ভাগ নিম্ন আয়ের মানুষের। যে বাড়িগুলো টিকে আছে, সেগুলো জলাবদ্ধ থাকায় কয়েক দিনের মধ্যে ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার অনেক এলাকা দুর্গম থাকায় আগে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মুঠোফোনে  বলেন, তাঁর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। আর তাই প্রধানমন্ত্রী ৩০ আগস্ট তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY