চালের মজুদ কিছুটা কম হলেও খাদ্যাভাব হবে না

চালের মজুদ কিছুটা কম হলেও খাদ্যাভাব হবে না

167
0
SHARE

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় দেশে এখন চালের মজুদ কিছুটা কম আছে। হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় খাদ্যশস্যের ক্ষতি হলেও এতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দেয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আলাদা দুটি প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সংসদকে এ কথা জানান। এ ছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাণিজ্য ঘাটতি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

 সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে খাদ্য মন্ত্রী কামরল ইসলাম জানান, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় খাদ্যশস্যের ক্ষতিসাধন হলেও এতে দেশে খাদ্য অভাব দেখা দেয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। সরকার অভ্যন্তরীণ সংগ্রহের পাশাপাশি বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানির দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
গোলাম রাব্বানীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় দেশে বর্তমানে চালের মজুদ কিছুটা কম রয়েছে। হাওর অঞ্চলের বন্যায় ফসলহানির ঘাটতি পূরণ ও মজুদ সন্তোষজনক রাখতে সরকার বিদেশ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিয়েতনামের সঙ্গে জিটুজি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য এমওইউ স্বাক্ষরের লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনামের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে।
সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে
পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ১৯৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে। এর মধ্যে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ১৯৫টি দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে ৭১টির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থ বছরের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে ছয় হাজার ৮৮১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে চীনে ৭৩৬ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির বিপরীতে আমদানি হয়েছে সাত হাজার ৬১৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। চীনের পরেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি তিন হাজার ৯৯৮ দশমিক ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের সঙ্গে ৫২২ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৫২১ মিলিয়ন ডলার। এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছয় হাজার ৬২৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৪ হাজার ২৫৭ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY