চীন সীমান্ত নিয়ে ভারতে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান

চীন সীমান্ত নিয়ে ভারতে সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান

370
0
SHARE

সংসদ অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে নরেন্দ্র মোদির সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল। আজ শুক্রবারের এ বৈঠকের আলোচ্য কাশ্মীর পরিস্থিতি ও চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ। ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত বিরোধ অনেক পুরোনো হলেও ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে এযাবৎ ভারতের কোনো সরকার সর্বদলীয় বৈঠক করেনি। সে হিসেবে এটি নজিরবিহীন ঘটনা।

সরকারি সূত্রে প্রথমে জানানো হয়, সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ভারত, ভুটান ও চীন সীমান্তের ‘জংশন’ ডোকলামে চীনের রাস্তা তৈরি নিয়ে ভারত আপত্তি জানানোয় যে সীমান্ত-সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সুষমা সেই বিষয়টি সর্বদলীয় বৈঠকে বিস্তারিত জানাবেন। পরে জানানো হয়, বৈঠকটি ডেকেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। সম্প্রতি হিমালয়ের অমরনাথ তীর্থ ফেরত পূণ্যার্থীদের ওপর জঙ্গিদের গুলি চালানোর পর কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও উপস্থিত থাকবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গোপাল বাগলে গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠকে সুষমা স্বরাজের উপস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, ডোকলাম নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে ভারত ও চীন কথা বলছে। জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘কিছু সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে’ কথা হয়েছে। ঠিক ডোকলাম-সংকট নিয়েই কথা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রিকস সদস্যদেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক বসছে চীনে। ২৬ জুলাই সেই বৈঠকে যোগ দিতে চীন যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। ওই বৈঠকের অবসরে অবশ্যই ডোকলাম সমস্যা নিয়ে কথা হবে।

 কাশ্মীর নিয়ে একাধিকবার ভারত সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে। আশির দশকে এমন বহু বৈঠক হয়েছে পাঞ্জাবের খালিস্তান আন্দোলন মোকাবিলা নিয়েও। তবে লাদাখের ডেপসাম সেক্টর কিংবা অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াংকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে বিরোধের সময়ে এ রকম আনুষ্ঠানিক সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়নি।

দুটি কারণে ভারত সরকার চীনের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম কারণ, এবারের পরিস্থিতি অন্যান্যবারের চেয়ে আলাদা। কারণ, এই বিরোধের তিনটি পক্ষ রয়েছে, যার একটি ভুটান। এই দেশটির প্রতিরক্ষার দায়িত্বও ঐতিহাসিকভাবে ভারতের। এক মাস কেটে গেলেও এই প্রথম সংকট কাটাতে চীন গরজ তো দেখাচ্ছেই না, বরং বিভিন্নভাবে যাবতীয় দায় ভারতের ওপর চাপিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।

দ্বিতীয় কারণ সংসদ অধিবেশন। সোমবার থেকে ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার আগেই বিরোধী দল কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ নিয়ে একটা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকারও এটা বুঝেছে, অধিবেশনে বিরোধীরা সীমান্ত-সংকট নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেই। বিরোধীদের সরকার সেই সুযোগ দিতে চাইছে না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY