জাতিসংঘে কী বার্তা দিলেন ট্রাম্প?

জাতিসংঘে কী বার্তা দিলেন ট্রাম্প?

51
0
SHARE
*‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি চলবে
*‘দুষ্টু রাষ্ট্র’ সন্ত্রাসীদের সমর্থক
*উত্তর কোরিয়াকে জবাব দেওয়ার হুমকি
*‘খুনে’ ইরানকে ধ্বংসযজ্ঞ শেষ করতে হবে
*আইএসের পরাজয়ে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান
*মানবিকতা দেখানোয় জাতিসংঘ, জর্ডান ও তুরস্ককে ধন্যবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে ভাষণ দিলেন। ভাষণে নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিশ্ববাসীর সামনে আবারও তুলে ধরলেন। ইরান প্রসঙ্গ ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর ভাষণে। পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দেওয়া বন্ধ না করলে বাধ্য হয়ে উত্তর কোরিয়াকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প কী বার্তা দিলেন, বিবিসি তা নিয়ে আলোচনা করেছে।

‘আমেরিকা ফার্স্ট’
নির্বাচনী প্রচার থেকে ট্রাম্প বলে আসছেন—‘আমেরিকা ফাস্ট’। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও মূল এই নীতি থেকে সরে যাননি তিনি। এবার জাতিসংঘের মঞ্চেও প্রতিধ্বনিত হলো তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। তিনি বলেন, ‘আমার সরকারের প্রথম দায়িত্ব তার মানুষের কাছে, আমেরিকার নাগরিকদের কাছে। তাদের প্রয়োজন মেটানো, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অধিকার সংরক্ষণ করা এবং মান রক্ষা করা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব সময় আমি “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতিতে বিশ্বাসী। এখানে উপস্থিত সব দেশের নেতাদের তাদের নিজের দেশের স্বার্থকে সব সময় প্রথমে রাখতে হবে। সব দায়বদ্ধ নেতার নিজের নাগরিকদের সেবা করার বাধ্যবাধকতা আছে। কারণ, মানব উন্নয়নের জন্য জাতিই হলো সেরা চালিকাশক্তি।’ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প সবার কাছে জানতে চান, ‘আমরা কি এখনো দেশপ্রেমিক?’

‘দুষ্টু রাষ্ট্র’ সন্ত্রাসীদের সমর্থক
ট্রাম্প তাঁর ভাষণে নাম উল্লেখ না করে কয়েকটি দেশকে ‘দুষ্টু রাষ্ট্র’ বলেছেন। তাদের উদ্দেশ্য করে দিয়েছেন আক্রমণাত্মক বক্তব্য। অধিবেশনে তাঁর সামনে বসে থাকা সেসব ‘দুষ্টু রাষ্ট্রের’ প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কিছু দুষ্টু দেশ আছে তারা কেবল সন্ত্রাসীদের সমর্থন করে না, বরং অন্য জাতি ও নিজের জনগণকেও হুমকি দেয়। যা বিশ্ব মানবতার জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র।’ এর সঙ্গে যোগ করেন, তারা নিজের দেশকে সম্মান করে না, অন্য দেশকে সম্মান করে না। সব জাতি ও মানুষ একত্র হলে এদের বিনাশের শক্তি সংগ্রহ করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন। ছবি: এএফপি

উত্তর কোরিয়াকে জবাব দেওয়ার হুমকি
ভাষণে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হুঁশিয়ার করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে ‘লৌহমানব’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর দেশকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শক্তি ও ধৈর্য আছে। কিন্তু আমরা যদি নিজেদের বা মিত্রদের রক্ষা করতে বাধ্য হই, তাহলে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।’ উত্তর কোরিয়ার নেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রকেটম্যান নিজেকে এবং নিজের দেশকে আত্মঘাতী অভিযানের দিকে পরিচালিত করছেন। যুক্তরাষ্ট্র এর উত্তর দিতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম। তবে আশা করি এর প্রয়োজন হবে না।’

ইরান ‘হত্যাকারী’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানকেও আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন। আর এ সময় চশমাটা কিছুটা নামিয়ে রেখে ট্রাম্পের বক্তব্য শোনেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ট্রাম্প বলেন, ‘গণতন্ত্রবাদী মুখোশের আড়ালে দুর্নীতিবাজ একনায়ক ইরান সরকার। দেশটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে সরে গিয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। এখন সহিংসতা, রক্তপাত ও বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে।’ এর সঙ্গে যোগ করেন, ‘যখন তারা ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যায়, আমরা তখন এমন খুনে শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দিতে পারি না…।’ ইরানকে তাদের ধ্বংসযজ্ঞ শেষ করতে হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি।

আইএসের পরাজয়ে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান
ট্রাম্প বলেন, আইএসের পরাজয়ে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হয়েছে। তিনি সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘের প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি, কারণ সংস্থাটি আইএস থেকে মুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।’ এ ছাড়া সিরিয়া সংকটে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় জর্ডান, তুরস্ক ও লেবাননকে ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY