ঢাকা মেডিকেলের কাপড় ধোলাই

ঢাকা মেডিকেলের কাপড় ধোলাই

1023
0
SHARE

সকাল থেকেই বৃষ্টি। আকাশের মুখ অন্ধকার। জরুরি প্রয়োজন না হলে কেউ কাপড় ধোয়ার কথা চিন্তাও করতে পারবে না। কিন্তু এ কী! কাপড় ধোলাইয়ের তো মহাযজ্ঞ চলছে। গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই দড়িতে কাপড় নেড়ে দেওয়া হয়েছে। না দিয়ে উপায় নেই। এগুলো হাসপাতালের ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারের বিছানার চাদর, চিকিৎসকদের ব্যবহারের অ্যাপ্রোন ও অন্যান্য কাপড়।

প্রতিদিন দুই হাজার পিস কাপড় ধুতে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। ইউনুস আলী এই কাজ করছেন ২৫ বছর ধরে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলে এই কাপড় ধোয়া ও শুকানোর কাজ। পরে অবশ্য এগুলো জীবাণুমুক্ত করা হয় lগতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাপড় ধোলাইয়ের এ মহাযজ্ঞ চোখে পড়ে। রাজধানীর বকশীবাজারের দিকে মেডিকেল কলেজ গেটের কাছে কেউ কাপড় ধুচ্ছেন, কেউ তা নেড়ে দিচ্ছেন। প্রায় ৫০ বছর বয়সী ইউনুস আলী কাজে হাত লাগানোর পাশাপাশি পুরো কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তিনিসহ কাপড় ধোলাইয়ের কাজ করেন প্রতিদিন ১৪ জন।

ইউনুস আলীর বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের কাছে। হাসপাতালের কাপড় ধোলাইয়ের কাজ করছেন ২৫ বছর ধরে। বর্তমানে তিনি এ কাজের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। ইউনুস আলীর বড় ভাই ইব্রাহিমও এ কাজ করছেন ২৫ বছর ধরেই। কৈশোর পার হওয়া কয়েকজন তরুণকেও দেখা গেল এই কাজ করতে।

পানির বড় একটি চৌবাচ্চার মধ্যে কেমিক্যাল মেশানো ঘোলা পানি। প্রায় কোমর ছুঁই-ছুঁই পানিতে দাঁড়িয়ে ইউনুস আলী কাপড় ধোলাইয়ের প্রক্রিয়া জানালেন। প্রথমে কাপড় বাছাই করা হয়। তারপর সেদ্ধ করা হয়। তারপর কেমিক্যাল মেশানো পানিতে ভিজিয়ে ঘষে ঘষে কাপড়ে লেগে থাকা রক্ত ও অন্যান্য দাগ তোলা হয়। প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে দুপুরে কিছুটা বিরতি দিয়ে কাজ চলে প্রায় বেলা তিনটা পর্যন্ত। বলতে গেলে শ্রমিকদের বেশির ভাগ সময়ই কাটে কেমিক্যাল মেশানো পানিতে দাঁড়িয়ে। প্রতিদিন কাপড়ের সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজার পিসের মতো।

চৌবাচ্চার বাইরে কাপড়ের স্তূপ রাখা। রক্ত শুকিয়ে আছে বেশির ভাগ কাপড়ে। সেখানে মাছি ভনভন করছে। কিছু কাপড় ধোয়ার পর ঘাসের ওপর স্তূপ করে রাখা। চারপাশের পরিবেশ খুব নোংরা।

ইউনুস আলী জানালেন, তাঁরা প্রাথমিকভাবে কাপড় শুকিয়ে দেন। তারপর হাসপাতালে অটোক্লেভ মেশিনে দিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পর তা ব্যবহার করা হয়।

ইউনুস আলীর দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে এবার বিসিএস পরীক্ষা দেবে বলে জানিয়ে দোয়া চাইলেন তিনি। অন্য ছেলে এবং মেয়েও পড়াশোনা করছে।

প্রতিদিন নোংরা কাপড় ধুতে খারাপ লাগে কি না জানতে চাইলে ইব্রাহিম বলেন, ‘অভ্যাস হয়ে গেছে। তবে যে পরিমাণে কষ্ট, বেতন সে অনুপাতে কম।’

পাশ থেকে তরুণ বয়সী এক শ্রমিক সকাল থেকে পানিতে ভিজতে থাকা সাদাটে হয়ে যাওয়া হাত দেখিয়ে বললেন, ‘কেমিক্যালের মধ্যে হাত ভিজতে ভিজতে চামড়া উইঠ্যা যায়। জ্বলে।’

প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই এই শ্রমিকদের। তাই তাঁরা যে যাঁর কাজে মন দিলেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছে সময়মতো পরিষ্কার কাপড় পৌঁছাতে হবে।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY