তিস্তার সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে

তিস্তার সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে

634
0
SHARE

তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলোচনার টেবিলে আনতে কাজ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এ কথা বলেন। তবে গ্রহণযোগ্য একটি চুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেধে দেয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহুল আলোচিত ভারত সফর তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হলেও, পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর একক বিরোধিতায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং অস্তিত্ব নেই এমন কিছু নদীর পানি বণ্টনের প্রস্তাব দিয়ে তিস্তার বিষয়টি এড়িয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাস ও বিষয়টি আলোচনায় গতমাসে মমতাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো তারই ইঙ্গিত বহন করে। সেই আলোচনায়ও তিস্তার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিন্ন মাথাভাঙ্গা নদী দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে পানি দূষণের পাল্টা অভিযোগ তোলেন মমতা।

এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের তিস্তা সমস্যা সমাধান অধরা হয়ে দাঁড়ালেও, বাংলাদেশের মতো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও হাল ছাড়তে রাজি নয়। এবার মমতাকে আলোচনার টেবিলে আনতে যা করণীয় তাই করা হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা বিষয়ে এক প্রশ্নোত্তরে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে ভারত বাংলাদেশ উভয় দেশই সমস্যায় আছে। এই চুক্তির জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেধে দেয়া সম্ভব না। সবার আগে পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এ বিষয়ে আলোচনার টেবিলে আনা জরুরি। আমরা সেই চেষ্টা করছি। মমতা এরই মধ্যে অন্য ৩টি নদীর পানি বণ্টনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব কি-না তা যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে। একটি ভালো চুক্তির জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় ও পশ্চিবমঙ্গ রাজ্য সরকার এবং বাংলাদেশ এই ৩ পক্ষকেই সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। আর আমরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।’

এর আগে, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে কংগ্রেস সরকারও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পাদন করা উচিৎ বলে মন্তব্য করে। পরের বছর ভরতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা সফরে আসলেও; মমতার বিরোধিতার কারণেই তিস্তা নিয়ে কোনো কূল কিনারা হয়নি। ২০১৫ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসঙ্গে ঢাকা সফর, সমস্যা সমাধানের আশা জাগানিয়া হয়ে দেখা দিলেও; শুধু আশ্বাসের মধ্যেই শেষ হয় তা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY