প্রেমিককে আত্মহত্যার প্ররোচনায় সেই তরুণী দোষী সাব্যস্ত

প্রেমিককে আত্মহত্যার প্ররোচনায় সেই তরুণী দোষী সাব্যস্ত

122
0
SHARE

প্রেমিককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই তরুণীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। প্রেমিককে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দিয়ে একের পর এক বার্তা পাঠানোর কারণে ওই তরুণীকে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার দায়ে দোষী বলে উল্লেখ করে রুল জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস আদালতের বিচারক। এরপর আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আজ শনিবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, মার্কিন ওই তরুণীর নাম মিশেল কার্টার (২০)। তাঁর প্রেমিক ছিলেন কনর‍্যাড রয় নামের এক তরুণ। ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই কনর‍্যাড রয়কে মৃত অবস্থায় ম্যাসাচুসেটসের ফেয়ারহেভেনসে কেমার্ট গাড়ি পার্কিংয়ে তাঁর গাড়িতে পাওয়া যায়। গাড়ির ভেতর কার্বন মনো-অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় কনর‍্যাডের বয়স ছিল ১৮ বছর।
প্রেমিককে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে মিশেলের একের পর এক বার্তা পাঠানোর তথ্যপ্রমাণ যুক্তরাজ্যের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ব্রিসটল কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসে তুলে ধরেন প্রসিকিউটর। ৬ জুন এ বিষয়ে যুক্তিতর্কের সময় মিশেল ও কনর‍্যাডের বার্তা বিনিময়ের ছবি আদালতে প্রদর্শন করা হয়। শুনানিতে বলা হয়, ‘শোকাহত প্রেমিকা’ হিসেবে সবার সহানুভূতি পেতে এবং মনোযোগ আকর্ষণের জন্য মিশেল তাঁর প্রেমিককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। দুজনের মধ্যে সর্বশেষ বার্তা বিনিময় থেকে দেখা যায়, আত্মহত্যার একপর্যায়ে কনর‍্যাড দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তিনি তাঁর পিকআপ ট্রাক থেকে বের হয়ে যান। ওই সময় মিশেল রেগে গিয়ে তাঁকে গাড়িতে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন।

বিচারক লরেন্স মনিজ বলেন, ‘দায়িত্ব জ্ঞানহীন ও অসংযত আচরণের’ বার্তা পাঠিয়ে কনর‍্যাড রয়কে ট্রাকে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে মিশেল কার্টার দোষ করেছেন। শুরুতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ওই ট্রাক থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন কনর‍্যাড। বিচারক বলেন, ‘তিনি (মিশেল) বিষয়টি কাউকে ফোন করে জানাননি। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি সাধারণ বার্তাও পাঠাতে পারতেন যে বেরিয়ে এসো ট্রাক থেকে।’

আদালত যখন তাঁকে অভিযুক্ত করছিলেন, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন মিশেল।

আত্মহত্যাকারী যুবক কনর‍্যাডের বাবা পরে এক সংবাদ সম্মেলনে আদালতের রুলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এটা আমাদের পরিবারের জন্য খুব কঠিন সময়। আমরা মামলা চালিয়ে যাব।’

মিশেল কার্টারকে আদালত জামিন দিয়েছেন। তবে কাউকে বার্তা পাঠানো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। মিশেলকে আদালত অভিযুক্ত করায় এখন কৌঁসুলিদের প্রমাণ করতে হবে যে কনর‍্যাড রয়ের মৃত্যুতে তাঁর ‘সরাসরি’ ভূমিকা ছিল।

মৃত্যুর সময় প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের রেকর্ড পাননি তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে প্রেমিকের মৃত্যুর পর এক বন্ধুকে পাঠানো মিশেলের বার্তা পাওয়া গেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY