‘ফিরে এসে যেন সবাইকে দেখতে পারি’

‘ফিরে এসে যেন সবাইকে দেখতে পারি’

164
0
SHARE

ঠিক এক সপ্তাহ আগে তিনি ছিলেন শাহবাগে, রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনে। ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি, ‘পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলের’ আঘাতে দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানকে আজ বৃহস্পতিবার ভারতের চেন্নাইয়ে পাঠানো হচ্ছে। গতকাল বুধবার সিদ্দিকুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ফিরে এসে যেন সবাইকে দেখতে পারি, আপনারা সবাই দোয়া করবেন।’

গত বৃহস্পতিবার আহত হন সিদ্দিকুর। সেদিনই তাঁকে ভর্তি করা হয় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকেরা বলেছেন, সিদ্দিকুর ডান চোখে আলো দেখছেন না। বাঁ চোখের এক দিক থেকে আলো কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছেন।

সিদ্দিকুরকে চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাঁর সঙ্গে যাচ্ছেন বড় ভাই নায়েব আলী।

ডান চোখের বিষয়টিকে নিয়তি হিসেবে দেখছেন সিদ্দিকুর। ঘটনার পর বন্ধু, সহপাঠীসহ মানুষের ভালোবাসা পেয়ে তিনি অভিভূত। তিনি বলেন, ‘আমার চোখ যাওয়াটা হয়তো কপালেই ছিল। আমার চোখের বিনিময়ে ছাত্ররা যদি পরীক্ষা দিতে শুরু করতে পারে, এটাই আমার সার্থকতা।’

সিদ্দিকুর বলেন, আন্দোলন বা ঝুটঝামেলা থেকে তিনি সব সময় দূরে থাকতেন। কিন্তু তাঁদের দাবি নৈতিক হওয়ার কারণেই সেদিন তিনি গিয়েছিলেন। তাঁর সামনে এক আন্দোলনকারীকে পুলিশ ধরেছিল। তাঁকে যাতে নিতে না পারে, সে জন্য এগোচ্ছিলেন। যখন মনে হলো পারবেন না, তখন দাঁড়িয়ে যান। আর ঠিক তখনই চোখে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যান। দোষী ব্যক্তির শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের যদি মনে হয় কারও আইনবহির্ভূত কাজের জন্য আজকে আমার এই অবস্থা, তাহলে তার বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

দ্রুততম সময়ে সিদ্দিকুরের পাসপোর্টের সব প্রক্রিয়া শেষ করার কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (অভিযান) আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা একটায় সিদ্দিকুরের ফ্লাইট।

সিদ্দিকুর পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলের আঘাতে আহত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একটি তদন্ত কমিটির প্রধান রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাভিদ কামাল  বলেন, তদন্তে এখনো তাঁরা কিছু পাননি। যে ভিডিও ফুটেজের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কারও চেহারাই স্পষ্ট নয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY