ফুলবাড়িতে বন্যা কবলিতরা এখনো পানিবন্দী

ফুলবাড়িতে বন্যা কবলিতরা এখনো পানিবন্দী

80
0
SHARE

বৃষ্টি কমেছে। বন্যার পানিও নামছে। তবে ধীরে। কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি। ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় যেসব লোক আশ্রয়কেন্দ্র বা দূরে বাঁধ ও মহাসড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন।

কুড়িগ্রামে সদরসহ নয়টি উপজেলা। সব কটি উপজেলাই বন্যা কবলিত। শুধু কুড়িগ্রাম শহরে পানি প্রবেশ করেনি। অধিকাংশ উপজেলার সঙ্গেই এখনো সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি প্রয়োজনে লোকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাতায়াত করছেন। তবে ঘাটগুলোতে নৌকাও পাওয়া যাচ্ছে খুব কম।

জেলার পশ্চিম পাশের ফুলবাড়ি উপজেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা গেল পানি নামতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গ্রামে ফিরে ঘরবাড়ির খোঁজখবর করছেন। তবে ঘরবাড়িগুলোতে এখনো কোমর সমান পানি জমে থাকায় সেখানে বসবাসের উপায় নেই।

ঘরবাড়ির সঙ্গে ভেসে গেছে ভিটার গাছ। ভাসতে ভাসতে আটকে গেছে বিদ্যুতের খুঁটিতে। সে খুঁটিও পানির ধাক্কায় হেলে পড়েছে।

 কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তিনটি জায়গা ভেঙে গিয়ে ধরলার প্রবল স্রোত সামনের গ্রামগুলো ভাসিয়ে দিয়েছে। সন্ন্যাসী গ্রামেই ক্ষতি হয়েছে বেশি। খায়রুল ইসলামের বাড়ি ছিল বাঁধের পাশেই। তার তিনটি টিনের ঘর স্রোতে ভেসে গেছে। এই গ্রামের লোকেরা বাঁধের ওপরে পলিথিনের ছাউনি ফেলে সেখানে বসবাস করছেন। তারা জানালেন ত্রাণ বলতে পেয়েছেন শুধু পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে চাল।

সদর উপজেলার সন্ন্যাসী গ্রামের সঙ্গেই লাগোয়া ফুলবাড়ি উপজেলার সারডোপ, বড়লই, চর বড়লই, কালিরপট গ্রামগুলো। ধরলার বাঁধভাঙা স্রোত সরাসরি এই গ্রামগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। উন্মত্ত স্রোতে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বা ভেসে গেছে। এমনকি পাকা বাড়িও ধসে গেছে। গাছপালা, বাঁশঝাড়, বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ছে। সর্বস্বান্ত হয়েছে কয়েক শ পরিবার। এখনো পুরো এলাকায় পাঁচ থেকে সাত ফুট বা কোথাও কোথাও তারও বেশি পানি জমে আছে। ফলে কত বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে তা সঠিক জানা যায়নি ।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ট্রলারে করে ঘুরে দেখা গেছে কলা গাছের ভেলা বা কয়েক পরিবার মিলে একেকটি নৌকা ভাড়া নিয়ে তাদের বাড়ি ঘরের খোঁজ নিচ্ছেন। আটকে থাকা টিন, দরজা জানালা পেলে সেগুলো তুলে আনার চেষ্টা করছেন। বড়ভিটা ইউনিয়নের জয়কুমার গ্রামের হাবিবুর রহমান মণ্ডল জানালেন, তাঁর চরটি ঘর ভেসে গেছে। রোপা আমন চাষ করেছিলেন ২৫ শতাংশ জমিতে। সেখানে এখন অথই পনি।

পানির তোড়ে পাকা ঘরবাড়িও ভেঙেছে। ছবিটি আজ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের সারডোবা গ্রাম থেকে তোলা।

সারডোপ গ্রামের আবদার রহমান জানালেন, তাঁর পরিবারের নারী-শিশুদের পাঠিয়ে দিয়েছেন রংপুরে আত্মীয় বাড়িতে। তাঁর একটি করাত কল আছে বাড়ির সামনে। অনেক উঁচু ভিটের ওপরে বাড়ি। তা সত্ত্বেও বাড়িতে কোমর সমান পানি ঢুকেছে। বাড়িটি ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা পেলেও করাত কলে রাখা বহু গাছের টুকরো স্রোতে ভেসে গেছে। তিনি জানালেন, এই গ্রামে এমন ভয়াবহ বন্যা কখনো দেখেনি।

পানি নামতে শুরু করলেও ফুলবাড়ি সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পাকা সড়কটি নয় জায়গায় ভেঙে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সে কারণে লোকজন মূলত পানিবন্দী হয়ে আছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY