‘বেসিক ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা করা উচিত’

‘বেসিক ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা করা উচিত’

95
0
SHARE

বেসিক ব্যাংককে দেউলিয়া ঘোষণা করা উচিত বলে মনে করেন সরকারদলীয় সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, মূলধন ঘাটতি পূরণে বেসিক ব্যাংককে ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে। ব্যাংকটি যে সমস্যায় পড়েছে, তা থেকে আগামী ১৫ বছরেও উত্তরণ ঘটার সম্ভাবনা নেই।

অনুমিত হিসাব–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্দশ বৈঠকে ফজলে নূর তাপস এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ বৈঠকের সংশোধিত কার্যবিবরণী ৪ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

কার্যবিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৈঠকে উপস্থাপিত বেসিক ব্যাংকের অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন সাংসদ। কমিটির সদস্য আবদুর রাজ্জাক বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, প্রতিবেদনে তা না থাকার সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে এ রকম অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন না থাকে, সে জন্য সতর্ক করেন।

জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ  বলেন, ব্যাংককে সাধারণত দেউলিয়া ঘোষণা করা যায় না। দেউলিয়া হয় ব্যক্তি বা কোম্পানি। ব্যাংক পুনর্গঠিত হতে পারে, একীভূত হতে পারে বা বিলুপ্ত হতে পারে।

একীভূত হওয়ার ফলও খুব ভালো হয় বলে মনে করেন না আলাউদ্দিন এ মজিদ। তিনি বলেন, দেখা গেছে এমন এক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হলো, তখন ওই ব্যাংককে নিয়েই আবার নতুন করে ডুবল।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দায়িত্ব নেওয়ার পর বেসিক ব্যাংক থেকে যেসব কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়েছিল, সেগুলোর উল্লেখসহ আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় কমিটির বৈঠকে যথাযথ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কমিটির সদস্য সাংসদ আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ৫৭টি ভুয়া কোম্পানির তালিকা এবং ঋণ বিতরণকারী শাখার নাম উল্লেখ করে জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

জবাবে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জানান, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বেসিক ব্যাংকে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বিভিন্ন আর্থিক সূচকে চরম অবনতি ঘটে।

বেসিক ব্যাংকের এমডি আরও জানান, কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, নতুন শাখা খোলা, পরিচালন ব্যয়, ব্যাংকের নিজস্ব ভবন কেনা, অফিস ভাড়া নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় ব্যাংকের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়।

বেসিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৬২৮টি খেলাপি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৬ হাজার ৫৩৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১০০ কোটি ও তার চেয়ে বেশি ঋণের গ্রাহক আছেন ১১ জন। তাঁদের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১ হাজার ২৫৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে ২০০৯ সালে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটির অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং ঋণের নামে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করা হয়।

বিপুল এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কিছু গ্রাহক এবং ব্যাংকারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু মামলার বাইরে থেকে যান আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নোটিশ দেওয়া হয় এবং শুনানি করছে দুদক। সংস্থাটি আবদুল হাই বাচ্চুকেও দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বেসিক ব্যাংক বিষয়ে গত বুধবার  বলেন, একটা সেরা ব্যাংক কয়েক বছরের মধ্যে কীভাবে একটা নিকৃষ্ট ব্যাংকে পরিণত হলো, তার বড় উদাহরণ হচ্ছে বেসিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে প্রয়োজনে আবারও তদন্ত করা এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ দায়ীদের খুঁজে বের করে শাস্তির সুপারিশ করা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY