ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করল সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ

ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর করল সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ

133
0
SHARE

তালিকাভুক্তির তিন বছর না পেরোতেই কোম্পানি পরিচালনায় চরম সংকটে পড়েছে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। এ কারণে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অন্য কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তিও সই করেছে কোম্পানিটি। চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইউরো দেশ কনজ্যুমার প্রোডাক্টসকে। চুক্তির ফলে ৫ আগস্ট থেকে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে ইউরো দেশ।

২০১৪ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। তালিকাভুক্তির শুরুতে কোম্পানিটিতে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের রায়ে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা দ্বন্দ্বের অবসান হলেও দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কোম্পানিটির ব্যবসার অবনতি ঘটতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এ কারণে তালিকাভুক্তির পরের বছর এসেই শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি। ফলে এটিকে দুর্বল মৌলভিত্তি বা জাঙ্ক কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়। আর এখন এসে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে অন্য কোম্পানির হাতে। কোম্পানির পক্ষ থেকে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলেও বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে গতকালও। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৪০ পয়সা বা আড়াই শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৪০ পয়সা।

এদিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে। এর মধ্যে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের(ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হওয়ার পর গতকাল দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৯১০ পয়েন্টের রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। এদিন ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় নতুন রেকর্ড হয়েছে বাজার মূলধনেও। গতকাল ঢাকার বাজারে ৩৩২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৫৩টিরই দাম বেড়েছে, কমেছে ১৪৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির দাম।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রেজারি ও করপোরেট বন্ড এবং ডিবেঞ্চারের সর্বশেষ বাজারমূল্যকে সব কোম্পানির মোট শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট, ডিবেঞ্চার, ট্রেজারি ও করপোরেট বন্ড সংখ্যা দিয়ে গুণ করে এ বাজার মূলধন হিসাব করা হয়। তাই বেশির ভাগ কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবেঞ্চার এবং বিভিন্ন ধরনের বন্ডের দাম বাড়লে বাজার মূলধনও বাড়ে।

দুই বাজারে সূচক বাড়লেও লেনদেনে ছিল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান। ঢাকার বাজারে লেনদেন কমেছে আর বেড়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। সিএসইর সার্বিক সূচকটি এদিন প্রায় ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩২৪ পয়েন্টে। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের প্রায় কাছাকাছিই ছিল। গতকাল সিএসইতে প্রায় ৬৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়। তবে ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ১৫৯ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৯১৯ কোটি টাকায়।

বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের শেয়ারের দামের ঊর্ধ্বমুখী ধারা পুরো বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ঢাকার বাজারের মোট লেনদেনের সাড়ে ২৬ শতাংশই ছিল ব্যাংক খাতের দখলে। এরপরের অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত, ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ১৭ শতাংশ ছিল এ খাতের দখলে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY