যা চাই তা পাই না

যা চাই তা পাই না

93
0
SHARE

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। বিক্রি শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা পর টিকিট শেষ বলে অপেক্ষমাণ লোকজনদের জানান স্টেশন কাউন্টারের কর্মচারীরা। তখনই টিকিটপ্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয় হইচই ও হট্টগোল।

দেওয়ানগঞ্জে তিস্তা ট্রেনের জন্য ২১ নম্বর সিরিয়ালের অপেক্ষায় থাকা এক টিকিটপ্রত্যাশী এসির চারটি টিকিট চেয়ে পাননি। তাঁকে দুটি এসির টিকিট ও সঙ্গে দুটি শোভন চেয়ার টিকিট দেওয়া হয়। অথচ তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ট্রেনে যেতে চেয়েছিলেন।

চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এ চিত্র অবশ্য স্টেশনের সব কাউন্টারে ছিল না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকিট পেয়ে অনেকেরই চোখেমুখে ছিল একগাল হাসি আর উচ্ছ্বাস।

প্রায় ১৭ ঘণ্টা দাঁড়ানোর পর চাহিদামতো সোনার বাংলা ট্রেনের এসি কোচের টিকিট পেয়েছেন বিমা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা মো. সোহেল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিবছরই ভালো টিকিট পাওয়ার জন্য কষ্ট করা হয়। অফিস থেকে বলে সময় নিয়ে এসেছি। এত কষ্টের পর টিকিটটা পেয়ে কষ্টটা বেমালুম ভুলে গেছি। সবাই মিলে বাড়ি যাওয়ার আনন্দ তো এখান থেকেই শুরু।’

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে আজ বৃহস্পতিবার চলছে ঈদের অগ্রিম বিক্রির চতুর্থ দিন। স্টেশনে টিকিটপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই এসেছেন ভোরে সাহরির পর। তবে সারির প্রথম দিকের কেউ কেউ গতকাল বুধবার থেকে আছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত সোমবার থেকে আন্তনগর ও স্পেশাল ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য পাঁচ দিনের কর্মসূচি শুরু করে। আগামীকাল ৬ জুন পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, আজ ২৪ হাজার ৬০৮টি টিকিট বিক্রির জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে, ২৫ শতাংশ মোবাইল বা অনলাইনের মাধ্যমে, ৫ শতাংশ ভিআইপিদের জন্য এবং ৫ শতাংশ রেলওয়ে কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, এক কাউন্টার থেকে নয়, টিকিট তো কয়েকটি কাউন্টার থেকে বিক্রি চলছে, নারী কাউন্টার থেকে বিক্রি হচ্ছে। টিকিট ছাড়া তো কেউ ফেরত যাচ্ছে না। হয়তো চাহিদা অনুযায়ী টিকিট পাচ্ছেন না। এসির টিকিট শর্ট আছে, কারণ এটার বরাদ্দ কম। তিনি আরও বলেন, একটা ট্রেনের টিকিট হয়তো ফুরিয়ে যেতে পারে। তবে টিকিট তো আছে। এক ট্রেনে না পেলে অন্য ট্রেনে আরেক ট্রেনের নিতে পারে। টিকিট তো আছে।

নারীদের কাউন্টারে চারজন নারীর পর একজন পুরুষ ঢুকে টিকিট নিচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন অভিযোগে সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, নারী ও পুরুষ কিন্তু এক লাইনে না। তবে ওইখানে বোধ হয় আরেক লাইন বানানো হয়েছে, তাই নারী-পুরুষ ঢুকেছে। নারীদের একটি কাউন্টার। সেই লাইনে পুরুষ ঢুকতে পারবে না।

কমলাপুর স্টেশনের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, টিকিট বিক্রির প্রথম দিন ১২ জুন থেকে স্টেশনে র‍্যাবের ক্যাম্প করা হয়েছে। স্টেশনে প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক যে সমস্যাগুলো ছিল, চোরাকারবারি, কালোবাজারি, পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি, মলমপার্টি, এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতে র‍্যাবের নজরদারি থাকবে বলে তিনি জানান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY