শপিংমল যেভাবে কারাগার হয়ে গেল

শপিংমল যেভাবে কারাগার হয়ে গেল

111
0
SHARE
তিনশো দোকান, ফাইভ স্টার হোটেল, সিনেমা দেখার জন্য আলাদা থিয়েটার, চিত্রপ্রদর্শনের জন্য গ্যালারি, জিমনেসিয়াম, পুল খেলার জায়গা ও নার্সারিসহ শপিংমলটির ছিল নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা। এছাড়া শপিংমলটির অন্যতম সুবিধা ছিল এর যেকোনো তলায় সরাসরি গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেত।
স্থাপত্যগত দিক দিয়ে এটি এতই সুন্দর ছিল যে, চিলির নোবেল জয়ী সাহিত্যিক পাবলো নেরুদা শপিংমলটিকে ষাটের দশকের সবচেয়ে সুন্দর ভবন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এমন বিলাসবহুল শপিংমল এখন অন্ধকার কারাগার! হয়তো মনে মনে ভাবছেন, শপিংমল না চলার কারণেই এমনটা হয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়।
স্বৈরশাসক মারকোস পেরেজ তখন ভেনিজুয়েলার ক্ষমতায়। হঠাৎ করে পেরেজের মাথায় শপিংমল বানানোর ভূত চেপে বসে। তিনি রাজধানী কারাকাসের দক্ষিণে সান অগাস্টিন শহরের পাহাড়ের ওপর একটি শপিংমল বানানোর নির্দেশ দেন। সর্পিল আকৃতির এই শপিংমলটি দৈর্ঘ্যের হিসেবে প্রায় আড়াই মাইল লম্বা।
কিন্তু বিপত্তি শুরু হয় ষাটের দশকের একেবারে শেষদিকে যখন স্বৈরশাসকের পতন ঘটে। স্বৈরশাসকের সম্পৃক্ততা থাকায় নতুন সরকার শপিংমলটির প্রতি একদমই আগ্রহ দেখাননি। অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এর কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে অযত্ন অবহেলায় দৃষ্টিনন্দন ভবনটি মদ, জুয়া আর যৌন ব্যবসার আখড়ায় পরিণত হয়। ১৯৮৪ সালে এখানে ভেনিজুয়েলা ইন্টেলিজেন্স পুলিশের সদর দফতর স্থাপন করে দেশটির সরকার। রাজনৈতিক বন্দিদের এখানে জিজ্ঞাসাবাদ আর নির্যাতন করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY