সঞ্চয়পত্রের বিকল্প খোঁজার পরামর্শ

সঞ্চয়পত্রের বিকল্প খোঁজার পরামর্শ

466
0
SHARE

বাজেটের টাকা জোগাড়ের উৎস হিসেবে সঞ্চয়পত্রের বিকল্প খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের মতে, গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার প্রতিবছরের বাজেটের ঘাটতি মোকাবিলায় যে অর্থ নেয়, তা বেশ ব্যয়বহুল।

গত বৃহস্পতিবার (ওয়াশিংটন সময়) বাংলাদেশের অর্থনীতি পর্যালোচনা করে সঞ্চয়পত্র নিয়ে এই কথা বলেছে আইএমএফ। বাংলাদেশে অর্থনীতি নিয়ে আর্টিকেল ফোর মিশনের আওতায় এই পর্যালোচনা করেছে আইএমএফ।

উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ারও সমালোচনা করে আইএমএফ। আইএমএফ বলেছে, এই ধরনের উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্র থেকে বাজেটের অর্থ আহরণের বৃদ্ধির বিষয়টি আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএমএফ বলেছে, যখন ব্যাংক ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত কম বিস্তৃত ছিল; তখন ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্র স্কিম চালু করা হয়। সিনিয়র নাগরিক, নারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সঞ্চয়ের মাধ্যমে এসব মানুষকে সুবিধা দিতে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ব্যাংক হারের চেয়ে বেশি রাখা হয়। বর্তমানে তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি এক ডজন সঞ্চয়পত্র আছে। অবশ্য নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙলে জরিমানা দিতে হয়।

আইএমএফ আরও বলেছে, কয়েক বছর ধরে সঞ্চয়পত্র উৎস থেকে বাজেটে অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ছে এবং তা অব্যাহত আছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের বাজেট অর্থায়নের যত টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, এর ৪০ শতাংশই সঞ্চয়পত্র থেকে। বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎসের অর্থায়ন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১০ শতাংশের মতো।

সঞ্চয়পত্র থেকে বেশি অর্থ আহরণের পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে বলে মনে করে আইএমএফ। আইএমএফের মতে, যখন সঞ্চয়পত্র প্রবর্তন করা হয়, তখন এটি ছিল জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে। তখন বাজেটে অর্থের জোগান দেওয়ার জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঋণ নেবে সরকার, এমন পরিকল্পনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছিল না। ক্রমান্বয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। কিন্তু যখন মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক সুদের হার কমতে শুরু করে, তখন এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সেভাবে কমানো হয়নি। এর ফলে সঞ্চয়পত্র খাতটি সরকারের অদৃশ্য ভর্তুকি বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য আছে এবং আমানতকারীদের অল্প সুদ দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে সঞ্চয়পত্র খাতে উল্টো অবস্থা বিরাজমান। এ পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র খাতে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা রোধ করা কঠিন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৪১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা পেয়েছে। এই হিসাব একই সময়ে মুনাফা ও মূল পরিশোধের পর যে অর্থ সরকার নিট পেয়েছে, তার হিসাব। ওই ১০ মাসে সরকার ৫৯ হাজার ২৬৮ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে। ওই সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সঞ্চয়পত্র ভেঙে অর্থ তুলেও নিয়েছেন। আর এ জন্য সরকার মূল পরিশোধ করেছে ১৮ হাজার ১২৩ কোটি টাকার। একই সময়ে সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধ করেছে ১২ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্রে সুদের হার এখনো গড়ে ১০ শতাংশের বেশি। পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার সবচেয়ে বেশি ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার নিট পেয়েছে ১৭ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। এর পরের স্থানেই রয়েছে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এই সঞ্চয়পত্র থেকে এসেছে ১১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY