সময়ের সঙ্গে অভিবাসীদের আয় বাড়ে কানাডায়

সময়ের সঙ্গে অভিবাসীদের আয় বাড়ে কানাডায়

75
0
SHARE

বর্তমানে কানাডায় অভিবাসীরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আয় করেন। ২০১৪ সালের তথ্য উপস্থাপন করে কানাডার পরিসংখ্যান সংস্থা (সিএসএ) জানিয়েছে, কানাডায় আসার এক বছরের মাথায় অভিবাসীরা বছরে গড়ে ২৪ হাজার ডলার আয় করেন, যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়তে থাকে। বর্তমানের এই হার ১৯৮১ সালের পর সর্বোচ্চ।
২০১৫ সালের আয়কর রিটার্নের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএসএ জানিয়েছে, কানাডায় আসা অভিবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আয় করছেন। এ আয় সময়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। অভিবাসীদের আয় বৃদ্ধির পেছনে মূলত কাজ করছে কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স ক্লাস (সিইসি)। অভিবাসন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত এ সংস্থা অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন আসা অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
এ বিষয়ে সিএসএর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক স্কট ম্যাকলিশ সিবিসি নিউজকে বলেন, ‘সিইসির আওতায় আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিবাসী এখন কানাডায় আসছেন। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় অন্য অভিবাসীদের তুলনায় ভালো অবস্থান থেকে তাঁরা যাত্রা শুরু করেন।’
অভিবাসীদের গড় আয় বৃদ্ধির এ তথ্য নিশ্চিতভাবে উৎসাহব্যাঞ্জক। কিন্তু এখনো অভিবাসীরা স্থানীয় কানাডীয়দের তুলনায় কম আয় করেন। ২০১৬ সালের জরিপের তথ্যমতে, জন্মসূত্রে কানাডার নাগরিকেরা বছরে গড়ে ৩৬ হাজার ৩০০ ডলার আয় করেন। এর বিপরীতে অভিবাসীদের গড় আয় ২৯ হাজার ৭৭০ ডলার। অভিবাসী ও স্থানীয়দের আয়ের এই পার্থক্য আবার একেক অঞ্চলে একেক রকম। সবচেয়ে বড় ব্যবধান রয়েছে আলবার্টায়। আর সবচেয়ে কম ব্যবধান রয়েছে নোভা স্কটিয়ায়। আর উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কিছু অঞ্চলে অভিবাসীদের বার্ষিক গড় আয় এমনকি স্থানীয়দের চেয়েও বেশি।
কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে মজুরি বৃদ্ধির হার এখন অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। ২০০৮ সালের হিসাবে দেখা গেছে, সে সময় সাত বছর ধরে কানাডায় আছেন এমন ব্যক্তিরা এক বছর ধরে কানাডায় থাকা ব্যক্তিদের চেয়ে গড়ে ১১ হাজার ডলার বেশি আয় করতেন। বর্তমানে এ ব্যবধান অনেক বেড়েছে। অভিজ্ঞতার সঙ্গে আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসীরা। এ অঞ্চল থেকে আসা এক বছর কিংবা তার চেয়ে কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অভিবাসীরা ২০ হাজার ডলারের মতো আয় করলেও সাত বছর পার হতে না হতেই তাদের গড় আয় ৪০ হাজার ডলারের কাছাকাছি দাঁড়ায়। তবে এ ক্ষেত্রে এশিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার অভিবাসীরা পিছিয়ে রয়েছেন। আমেরিকা অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বরং উল্টো ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিন কানাডায় থাকা আমেরিকানদের তুলনায় নতুন আসা আমেরিকানরা এখন বেশি আয় করছেন।
কনফারেন্স বোর্ড অব কানাডায় দাখিল করা এ বিষয়ক এক প্রতিবেদন মতে, আয় বৈষম্যের নেপথ্যে মূলত রয়েছে ভাষা দক্ষতা, অভিজ্ঞতার মতো বিষয়গুলো। এ ছাড়া বৈষম্যের মতো কিছু বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। কানাডার অভিবাসীদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন হলেও এ বিষয়ে আরও অনেক কিছু করার রয়েছে।
কুইবেকের অভিবাসী সম্পর্কিত সংগঠনগুলোর জোটের প্রধান স্টিফান রিচোল্ড বলেন, এখানে এসে মানুষেরা নতুন করে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে এমনকি ইকোনমিক ভিসার অধীনে কানাডায় আসা অভিবাসীরাও নতুন করেই শুরু করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা তাদের মানের চেয়ে নিম্নমানের কাজ দিয়ে শুরু করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অভিবাসীর জাতিগত পরিচয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। দেখা গেছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের মধ্যে ইউরোপ থেকে আসা অভিবাসীদের তুলনায় বেকারত্ব বেশি। রয়েছে বর্ণবাদী কিছু কারণও।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY