সুতি শাড়ির দিকেই নজর বেশি

সুতি শাড়ির দিকেই নজর বেশি

58
0
SHARE

এক নারী ক্রেতা বললেন, ওই যে ডলের (পুতুল) গায়ে যে নীল শাড়িটা, ওটা একটু দেখান তো। তারপর এই শাড়িটাও একটু দেখান। কিন্তু এই ক্রেতার টাকা পরিশোধ করার আগ মুহূর্তে চোখ চলে গেল আরেকটি নীল শাড়ির দিকে। সেলস গার্ল ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী আবার নতুন করে শাড়ি প্যাকেট করলেন। ঈদের শাড়ি বলে কথা। কত কিছু যাচাই-বাছাই করতে হয়। গত রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে বিবিয়ানা ফ্যাশন হাউসে এ চিত্র দেখা যায়।

 রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে ঢুঁ মেরে দেখা যায়, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। নারী ক্রেতারা ব্যস্ত নিজের ও মা-শাশুড়িসহ অন্যদের জন্য শাড়ি কিনতে। এবার ঈদে গরম থাকবে, তাই সুতি শাড়ির কদর বেড়েছে বলে জানালেন বিক্রেতারা।

ঈদের বাজারে শৌখিন ক্রেতারা একটু নতুনত্ব খোঁজেন। শাড়ি কথনের স্বত্বাধিকারী এবং ডিজাইনার সাবিহা আক্তার জানালেন, শৌখিন ক্রেতাদের জন্য খাদি ও গামছা কাপড়ের মিশেলে শাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এতে অর্ধেক শাড়ি খাদি কাপড়ের, এই অংশে ব্লক করা হয়েছে। এ অংশটুকু থাকবে প্রথম প্যাঁচ থেকে শুরু করে কুচি পর্যন্ত। আর এরপর থেকে আঁচল পর্যন্ত গামছা কাপড়। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিজস্ব তাঁতে তিনি ১৩ হাত লম্বা শাড়িগুলো তৈরি করছেন।

জমিনে নানা লেখা দিয়ে শাড়ি তৈরি করেছে ফ্যাশন হাউস বিবিয়ানা। শাড়িতে অনেক লেখার মধ্যে একটি লেখা ছিল, ‘তুই কি আমার শূন্য বুকে দীর্ঘশ্বাসের বকুল…।’

ফ্যাশন হাউস রঙের এক বিক্রয়কর্মী জানালেন, ক্রেতারা সুতি, হাফ সিল্ক, মসলিনের শাড়ি বেশি খুঁজছেন। তবে গতবার রোজার এই সময়ের তুলনায় এবার বেচাকেনা কম।

বসুন্ধরা শপিং মলের দেশী দশ আউটলেটে নগরদোলা থেকে একটি শাড়ি কেনেন চিকিৎসক শারমীন সোহেলী। গাঢ় কচুপাতা রঙের হাফ সিল্ক শাড়ি, তাতে জামদানি নকশা করা। তিনি জানালেন, অনেকক্ষণ ধরে ঘুরে পরে এই শাড়িটি শাশুড়ির জন্য পছন্দ হয়েছে।

শাড়ির ক্রেতারা রাজধানীর বেইলি রোডে এবং ধানমন্ডির হকার্স মার্কেটে একবার করে ঢুঁ দেওয়ার চেষ্টা করেন। বেইলি রোডের উইংস অব বাটারফ্লাইয়ের মালিক জানালেন, টাঙ্গাইলের তসর, হাফ সিল্ক, জামদানি সিল্কের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা গরমের জন্যই হয়তো হালকা রং বেশি পছন্দ করছেন।

 ঈদে অনেক ক্রেতাই একটু দামি এবং ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের শাড়ি কিনতে চান। গুলশান ১ জব্বর টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্সে খাজানা শাড়িজের ব্যবস্থাপক প্রথম আলোকে জানান, তাঁর শোরুমে ভারতের কাঞ্জিভরম, তন্তুজ, মসলিন, পাটেলা, গাদোয়াল, কোটা, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের লেস শাড়ি, বাংলাদেশের ঈদ স্পেশাল সিল্কের কাঁথাস্টিচ শাড়ি, মিরপুরের কাতান এবং টাঙ্গাইলের সুতি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। তবে এবার ঈদে ক্রেতারা ঘুরেফিরে সুতি শাড়ি বেশি কিনছেন। দেশী দশ আউটলেটে নীল আঁচল শাড়িজের ব্যবস্থাপক জানালেন, তাঁর শোরুমের বেশির ভাগ শাড়িই ভারত থেকে আনা।

এরপরও কিছু ক্রেতা ঈদের শাড়ি কেনার জন্য উড়াল দেবেন ভারত, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে। আর ঈদুল ফিতরের আগে-পরে অনেক পরিবারে বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় অনেকেই ঝলমলে লেহেঙ্গা এবং বেশি কাজের শাড়ি কেনেন ঈদবাজার থেকেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY