স্টোকসদের স্যালুটই জানাচ্ছে বাংলাদেশ

স্টোকসদের স্যালুটই জানাচ্ছে বাংলাদেশ

188
0
SHARE

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে খুব জনপ্রিয় নন এউইন মরগান ও বেন স্টোকস। এমন দুর্দান্ত দুই ক্রিকেটারকে অপছন্দ করার কারণটা অবশ্য সম্পূর্ণ অক্রিকেটীয়। গত অক্টোবরে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে এলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ান ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক মরগান। ব্যাপারটা মরগানের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপার হলেও গোটা ইংল্যান্ড দল যখন বাংলাদেশ সফরে আসছে, তখন তাঁর সরে দাঁড়ানোটা খুব পছন্দ করেনি বাংলাদেশের মানুষ। অন্যদিকে স্টোকস বাংলাদেশে এলেও গোটা সিরিজজুড়েই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর টুকটাক লেগেই ছিল। ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কাছে হারের পর স্টোকসের অতিপ্রতিক্রিয়া, আনুষ্ঠানিক করমর্দনের সময় তামিম ইকবালের সঙ্গে তাঁর বচসায় জড়িয়ে পড়া ইত্যাদি তাঁকে অজনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। ঢাকা টেস্টে স্টোকসকে সাকিব আল হাসানের স্যালুট তো ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। অথচ এই দুই ক্রিকেটারের জন্য কাল গোটা সন্ধ্যাটাই প্রার্থনায় কাটাল বাংলাদেশ।
মরগান কিংবা স্টোকসের জন্য বাংলাদেশ প্রার্থনা করেছে, কথাটা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাংলাদেশ প্রার্থনা করেছে আসলে ইংল্যান্ডের জন্য। আরও নির্দিষ্ট করে বললে বাংলাদেশের প্রার্থনা ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে সুযোগ করে নেওয়ার। এখানে মরগান কিংবা স্টোকস ছিলেন নিমিত্ত। বাংলাদেশের মানুষ চাচ্ছিল ইংল্যান্ডের জয়। সেটি যে কারোর মাধ্যমে আসতে পারত। জেসন রয়-অ্যালেক্স হেলস-জো রুট কিংবা জস বাটলার-মঈন আলী যে কেউ-ই। কিন্তু মরগান ও স্টোকসের ব্যাটে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়া পুরো ব্যাপারটিকেই অন্যমাত্রা দিচ্ছে।
এজবাস্টনে গতকাল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি যেন নিজেদেরই হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের মানুষের কাছে। প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া ২৭৭ রানের বেশি যেতে না পারায় আগাম একটা উদ্‌যাপন কিন্তু হয়েই গিয়েছিল। তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শুরুতে অন্ধকার নেমে আসে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে-মুখে। ৩৫ রানেই নেই ইংল্যান্ডের ৩ উইকেট! অস্ট্রেলিয়ার ২৭৭ রানকে তখন মনে হচ্ছিল রীতিমতো পর্বততুল্য। এর মাঝে বৃষ্টি এলে স্বস্তির স্রোত বয়ে যায় সবার মধ্যে। কিন্তু সেই বৃষ্টি অল্প কিছুক্ষণ পরেই থেমে গিয়ে খেলা শুরু হলে আবারও উৎকণ্ঠা। উইকেটে তখন মরগান আর স্টোকস। অনেকেই এই দুজনের জুটির সঙ্গে খুঁজে নিচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর সেই জুটির মিল। পরিস্থিতিও ছিল কার্ডিফে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের মতোই। চাপের মুখে মরগান আর স্টোকস পাল্টা আক্রমণ শুরু করলেন। দুই ইংলিশ ক্রিকেটারের এক-একটি শট যেন আরাধ্য সেমিফাইনালের পথে একটু একটু করে এগিয়ে দিচ্ছিল বাংলাদেশকে। ১৫৯ রানের জুটি গড়লেন দুজন। স্টোকস করলেন সেঞ্চুরি (১০২), মরগান আউট হলেন ৮৭ রানে। দুই ‘অপ্রিয়’ ক্রিকেটারের বন্দনাতেই তখন মাতোয়ারা গোটা বাংলাদেশ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমজুড়ে প্রশংসা স্টোকস-মরগান বীরত্বের।
গত অক্টোবরে বাংলাদেশের কাছে হারের পর তামিমের সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন স্টোকস। সে ম্যাচেই আউট হওয়ার পর বাটলার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মন্তব্যে মেজাজ হারিয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচেই তামিমের সঙ্গে এক চোট কথা-কাটাকাটি হয়ে গেছে স্টোকসের। কিন্তু কাল কার্ডিফের হোটেলে বসে স্টোকস-মরগান-বাটলারদের নিশ্চয়ই খুব শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা করছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। স্টোকসকে কাল সাকিব নিশ্চয়ই মনে মনে একটা স্যালুট জানিয়েছেন। স্টোকসকে তো ‘স্যালুট’ জানিয়েছে গোটা বাংলাদেশই। মরগানের বাংলাদেশে এসে আতিথেয়তা গ্রহণ না করার ‘অপরাধ’ নিশ্চয়ই কাল থেকে ভুলে গেছে বাংলাদেশের মানুষ। অক্টোবরের সেই ওয়ানডে ম্যাচে বাটলারের আচরণও ক্ষমা করেই দিয়েছে তারা।
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই—এটা প্রায়ই শোনা যায়। ক্রিকেটপ্রেমীদেরও এখন ভাবতে হচ্ছে এই লাইনেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY