১৩ দিনে দুর্ঘটনায় নিহত ৩১১ জন

১৩ দিনে দুর্ঘটনায় নিহত ৩১১ জন

89
0
SHARE

এবারের ঈদযাত্রার ১৩ দিনে দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ২৪০টি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ৩১১ জন নিহত। আহত হয়েছে ৮৬২ জন। এর মধ্যে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত ও ৮৪৮ জন আহত হয়েছেন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৭’ তুলে ধরে।

এবারের ঈদে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মনিটরিং সেল ১৯ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে। এই সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ছয়টি আঞ্চলিক দৈনিক ও ১০টি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। পর্যবেক্ষণ শেষে আজকের সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার তথ্য-পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রার শুরুর দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৭৪ জন নিহত ও ৮৪৮ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে নৌ-পথে একটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছে। আর রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ২৫ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে নয়জনসহ মোট ৩৪ জন নিহত হয়। সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৫ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত। এই চার দিনে ৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত ও ১২৮ জন আহত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন তুলে ধরেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদে তুলনামূলক দুর্ঘটনা কম ঘটেছে। যানবাহনের পরিমাণ যে হারে বেড়েছে তাতে দুর্ঘটনা তত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ও বিক্ষিপ্ত দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশ বাসে, ৩৪ শতাংশ ট্রাক ও পিকআপে, ২৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-ভটভটি-ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে এবং ৪ শতাংশ অন্যান্য যানবাহনে ঘটে।

সমিতির প্রতিবেদনে এবারের ঈদুল ফিতরের সঙ্গে গত বছরের ঈদুল ফিতরের যাত্রার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ১২১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৬ জন নিহত হয়েছিল। আর এ বছর ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেলপথে কাটা পড়ে ২০১৬ সালে তিনজন নিহত হয়। আর এবার রেলপথে কাটা পড়ে ৩৪ জন নিহত হয়েছে। সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনা বাড়লেও উল্টো চিত্র দেখা যায়, নৌ-পথে। ২০১৬ সালে তিনটি নৌ-দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছিল। এবার তা কমে একটি দুর্ঘটনায় তিনজন মারা গেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত চার বছর ধরে তাঁরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। এবারের ঈদে রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গনি মিয়া বাবুল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY