২৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

২৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি

107
0
SHARE

অবশেষে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে স্বস্তির খবর মিলেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে পণ্য রপ্তানি আয়ে সাড়ে ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দীর্ঘ ২৩ মাসের মধ্যে গত মাসেই এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধির মুখ দেখল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আগস্টে রপ্তানিতে ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম মাস, অর্থাৎ জুলাইয়ে ৩২০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এটি গত বছরের জুলাইয়ে অর্জিত ২৫৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের চেয়ে ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। অবশ্য ভালো প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গত জুলাইয়ে ৩২৩ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বুধবার রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৭২ (সংশোধিত)।

পণ্য রপ্তানি আয়ের শীর্ষ খাত তৈরি পোশাকশিল্প চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরে দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে, অর্থাৎ জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানিতে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় ২৪৭ কোটি ৯২ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। এর মধ্যে নিট পোশাকে ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে ১২১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার এসেছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত জুনে ঈদের লম্বা ছুটির কারণে অনেক পণ্য সময়মতো শিপমেন্ট হয়নি। সেসব পণ্য জুলাই মাসে শিপমেন্ট হয়। তাই পোশাক খাতে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও এটা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে আগামী মাসগুলোতেও এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে। কারণ পোশাকের মূল্যের বিচারে ক্রয়াদেশের অবস্থা বর্তমানে খুব একটা ভালো নয়। তিনি আরও বলেন, সেপ্টেম্বরে এক মৌসুম পার হলে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কী করতে হবে—এমন প্রশ্নে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের চাপ না থাকা এবং গ্যাসের নতুন সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এলএনজি আমদানি শুরু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ দরকার। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি করা উচিত না।’

এদিকে রপ্তানি আয়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের দ্বিতীয় অবস্থানটি দখল করে নিয়েছে প্রকৌশল পণ্য। অর্থবছরের প্রথম মাসে ২৩ কোটি ডলারের প্রকৌশল পণ্য রপ্তানির ফলে খাতটির রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭০২ শতাংশ। এই আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০৭ শতাংশ বেশি।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। এই আয় গত বছরের জুলাইয়ে অর্জিত ৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের জুলাইয়ের ৬ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের চেয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ কম।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে হোম টেক্সটাইলে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। এই আয় গত বছরের জুলাইয়ের ৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার থেকে ৫৭ শতাংশ বেশি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY