মাশরাফির মনে বিশ্বাস ছিল, হয়ে যাবে

মাশরাফির মনে বিশ্বাস ছিল, হয়ে যাবে

126
0
SHARE

৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর কি কল্পনা করেছিলেন, এই ম্যাচ জিততে পারবেন?
সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফিকে প্রথম প্রশ্নটা করলেন এক বিদেশি সাংবাদিক। মাশরাফি উত্তর দিলেন, ‘সত্যি কথা বললে ওই সময়ে এমন ভাবা খুব কঠিন ছিল। কিন্তু রানটা ওরা যখন এক শতে নিয়ে গেল, তখন আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছি। আমি পার্টনারশিপের এক শ বলছি না, দলের এক শ রানের কথা বলছি। আমি জানতাম, এরা দুজন ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিতে পারে। ওরা আগেও অনেকবারই এমন দিয়েছে।’ এরপর একটা হাসি দিয়ে বললেন, ‘তবে ওরা দুই শ রানের পার্টনারশিপ করে ফেলবে, এটা ভাবিনি।’
পরের প্রশ্নটা যিনি করলেন, সেই সাংবাদিক সম্ভবত বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি দুটি দেখেননি। নইলে কেন প্রশ্ন করবেন, মাহমুদউল্লাহকে কি এর চেয়ে ভালো ব্যাটিং করতে দেখেছেন? মাশরাফি তাঁকে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির কথা মনে করিয়ে দিলেন। মনে করিয়ে দিলেন, সাকিবও অতীতে কতবার এমন ইনিংস খেলেছেন।
গত দুই বছরে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়ের সংখ্যা একেবারে কম নয়। এর প্রায় সবই মাশরাফির অধিনায়কত্বে। ১২ বছর আগে এই কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ী দলের একমাত্র তিনিই আছেন এবারও। তারপরও এই জয়টাকে আলাদা করে রাখতে চান মাশরাফি, ‘ম্যাচের পরিস্থিতি দেখলে এই জয়টা অবশ্যই খুব ওপরের দিকে থাকবে। ম্যাচের অর্ধেকটা যাওয়ার পর হয়তো মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা সহজ হবে। তবে ৩৩ রানে ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এটা অনেক কঠিন ছিল। এই জয়টা আমাদের অনেক বিশ্বাসী করে তুলবে। কারণ এই অবস্থা থেকে জয় পাওয়া বড় দলের জন্যও কঠিন।’
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রমাণ করার একটা তাগিদও যে ছিল, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন মাশরাফি, ‘এ ধরনের টুর্নামেন্টে আমরা ভালো না করলে কথা ওঠে। এই জয়টা তাই আমাদের জন্য খুব ভালো হয়েছে। এখন সবাই বলবে, আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো দল হয়ে উঠছি। এতদিন হয়তো শুধু দেশেই জিতছিলাম। এখন দেশের বাইরেও জিতছি।’
টি–টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়েছেন। ওয়ানডেতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা গুঞ্জন শোনা যায়। মাশরাফি নিজে কি কিছু ভাবছেন? মাশরাফি যা বললেন, তাতে পরিষ্কার এখনই শেষ বলে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই, ‘আমি যেটা উপভোগ করছি, সেটা আমি খেলতে চাচ্ছি। ১৬/১৭ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছি। আমি কারও কথা শুনে ক্রিকেট খেলি না। এমনকি ফ্যামিলির কথাও শুনি না। আর ভবিষ্যতের চিন্তা আমি কখনোই সেভাবে করি না। এখনও করছি না।’
এমন একটা জয়ের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি হওয়ারই কথা। মাশরাফি সেই খুশিটা কারণসহ ব্যাখ্যা করলেন, ‘যে গ্রুপে আমরা পড়েছিলাম,সেটি খুব কঠিন ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা সাত বছর পর খেললাম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও গত কিছুদিন যা খেলেছি, সেসবও দেশে। একমাত্র নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই আমরা গত কিছুদিনে দেশের বাইরে ছয়টা ম্যাচ খেলেছি। এটা থেকেই বোঝা যায়, এ ধরনের দলের বিপক্ষে এ ধরনের উইকেটে আমরা যত খেলব, ততই ভালো করব।’
সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন হলো। মাশরাফি উত্তরটা দিলেন চমৎকার, ‘আমরা আমাদের কাজ করে রাখলাম। বাকিটা তো আমাদের হাতে নেই। অস্ট্রেলিয়া হারলে আমরা সেমিফাইনালে খেলব। তবে আমি কালকের (আজ) ম্যাচের জন্য দুই দলকেই শুভকামনা জানিয়ে রাখলাম।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY