দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর কূটনৈতিক পথে সাড়া দেওয়া ছিল ভারতের প্রচলিত কৌশল। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাই হামলার পর লস্কর-ই-তৈয়বাকে দায়ী করে ভারত নানা প্রমাণও উপস্থাপন করে। ঐ হামলায় প্রাণ হারান ১৬০ জনের বেশি মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত আনা হয়েছে।
তবে ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত এবার সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে। ৭ মে রাতে পাকিস্তানে চালানো হয় ভারতীয় সামরিক অভিযান, যার পাল্টা জবাব দেয় ইসলামাবাদ।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক হ্যাপিমন জেকব বিবিসি হিন্দিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে ভারত তার প্রতিক্রিয়ার কৌশলে মৌলিক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০০১ সালের সংসদ হামলা বা ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারত সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, কারণ ছিল পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা। তবে ২০১৬ সালের উরি হামলা ও ২০১৯ সালের পুলওয়ামা ঘটনার পর সীমান্ত পেরিয়ে যথাক্রমে সার্জিক্যাল ও এয়ার স্ট্রাইক চালায় ভারত।
অধ্যাপক জেকবের মতে, “ভারতের বর্তমান কৌশল হলো—যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়, তাহলে ভারত প্রচলিত সামরিক শক্তি দিয়ে জবাব দেবে।”
এছাড়া তিনি বলেন, এবার ভারত নিজেরাই জানিয়েছে কোথায়, কীভাবে তারা হামলা করেছে—যা আগে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার বদলে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে।
তিনি যুক্ত করেন, “এই কৌশলের বার্তা স্পষ্ট—পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়, তাহলে তাদের ভূখণ্ডেই হামলা হবে।” লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ কাশ্মীরের সাম্প্রতিক হামলার দায় স্বীকার করেছে, যাদের মূল ঘাঁটি পাকিস্তানের মুরিদকেতে।
পরিশেষে জেকব বলেন, “ভারত এখন আন্তর্জাতিক সমর্থনের জন্য অপেক্ষা করছে না। তারা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছে—ঠিক যেমনটা করে আমেরিকা বা ইসরাইল।”







