অস্ট্রেলিয়ায় মিলেনিয়াল ও জেনারেশন জেড প্রজন্ম ভোটারদের বৃহত্তম অংশ হলেও, ফেডারেল পার্লামেন্টে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও অপ্রতুল। পূর্ববর্তী সংসদে সদস্যদের গড় বয়স ছিল ৫২, যেখানে মাত্র এক চতুর্থাংশ ছিলেন ৪৫ বছর বা তার কম বয়সী। অথচ জাতীয় গড় বয়স মাত্র ৩৮।
ফাতিমা পেমানের অভিজ্ঞতা:
সিনেটর ফাতিমা পেমান, মাত্র ২৭ বছর বয়সে নির্বাচিত হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কনিষ্ঠতম সংসদ সদস্য হন। তিনি বলেন,
“পার্লামেন্টে প্রবেশ করা, যেখানে সবার বয়স আমার বাবার কাছাকাছি, সেখানে নিজের অবস্থান বোঝানো কঠিন ছিল।”
তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো রাজনৈতিক ঘটনার রেফারেন্স, HECS ঋণ বা TikTok সম্পর্কে অজ্ঞানতা—সব মিলিয়ে তিনি প্রায়ই নিজেকে আলাদা অনুভব করতেন।
“আমি কোনো রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসিনি, অতীত মিত্রতা বা দলীয় বোঝা নিয়ে আসিনি। এতে আমি স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলতে পারতাম।”
গাজা সংকটে লেবার পার্টির অবস্থান নিয়ে দ্বিমতের কারণে তিনি ২০২৪ সালে দল ছেড়ে নিজের রাজনৈতিক দল Australia’s Voice গঠন করেন।
আন্তর্জাতিক সফরে প্রায়ই তাকে ইন্টার্ন বা সহকারী ভাবা হত, যা তাকে নিজের পরিচয় ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করত।
“আমি আমার পোশাক বা কণ্ঠস্বর বদলাব না, শুধু মেনে চলার জন্য,” বলেন তিনি।
তরুণদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করা জরুরি:
তিনি বলেন,
“সচিবালয়ে একটি চেয়ার পাওয়া যথেষ্ট নয়, আমাদের একটি মাইক্রোফোনও দরকার—যাতে আমাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়।”
ওয়ায়াট রয়: সর্বকনিষ্ঠ এমপির অভিজ্ঞতা:
২০১০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হন ওয়ায়াট রয়, যা তাকে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফেডারেল এমপি বানায়।
প্রথম দিকে তার বয়সকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করে বিরোধীরা, কিন্তু তিনি বলেন,
“ভোটাররা ভবিষ্যত নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে উন্মুক্ত ছিলেন।”
সহকর্মীরা তার দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিকে মূল্য দিয়েছেন।
“তারা বলতেন, ‘তোমার প্রজন্মকেই ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে হবে’, তাই তারা আমার মতামতকে গুরুত্ব দিতেন।”
সারা হ্যানসন-ইয়াং: নারীর লড়াই:
২০০৭ সালে সিনেটর সারা হ্যানসন-ইয়াং যখন প্রথম নির্বাচিত হন, তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ নারী সংসদ সদস্য। এবার তার সেই রেকর্ড ভেঙেছেন লেবার পার্টির চার্লট ওয়াকার, মাত্র ২১ বছর বয়সে।
হ্যানসন-ইয়াং বলেন,
“একজন তরুণ, নারী ও একক মা হিসেবে আমি লক্ষ্যবস্তু হয়ে পড়ি। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ করা কঠিন ছিল।”
তিনি প্রথম অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে টুইটার (বর্তমানে X) ব্যবহার শুরু করেন, যা একদিকে তাকে জনগণের কাছে নিয়ে গিয়েছিল, আবার অন্যদিকে অনলাইন হয়রানির মুখে ফেলেছিল।
২০১৮ সালে এক সিনেটরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন এবং ২০১৯ সালে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া ১,২০,০০০ ডলার নারীদের সংগঠনে দান করেন।
“আমার মেয়ে এখন ১৮ বছর বয়সী। আমি দেখি, তারা অনেক বেশি স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী। এটা সমাজের জন্য ইতিবাচক।”







