গভীর শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংকটে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট (ইউএসএসি) আপাতত কিছুটা রেহাই পেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছ থেকে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিন মাস সময় দিয়েছে আইসিসি বোর্ড।
আইসিসির সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক বোর্ড বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইউএসএসি যদি এই সময়ের মধ্যে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ঘাটতি পূরণ করতে পারে, তবে তারা অলিম্পিকের জন্য দল নির্বাচন করার পূর্ণ অধিকার পাবে।
গত এক বছর ধরে ইউএসএসি ছিল আইসিসির নজরদারির অধীনে, এবং সম্প্রতি তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল আইসিসি নিয়োজিত নরমালাইজেশন কমিটি। তবে কমিটি ইউএসএসি’র অগ্রগতিতে অসম্পূর্ণতা ও অদক্ষতা দেখতে পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ পরিস্থিতিতে এত ব্যত্যয়ের পর সদস্যপদ স্থগিত করে দেওয়া হতো। কিন্তু ২০২৮ অলিম্পিক যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে—এ কারণে স্বাগতিক দেশের প্রতিনিধি নির্বাচনে বিশেষ বিবেচনা করছে আইসিসি।
নির্বাচন কে করবে?
যদিও অলিম্পিকে স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, বড় প্রশ্ন থেকে গেছে—এই দল নির্বাচন করবে কে?
ইউএসএসি যদি নির্ধারিত তিন মাসে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে না পারে, তবে সেই দায়িত্ব কার হাতে থাকবে—তা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক কমিটিও (USOPC) ভূমিকা রাখবে।
অংশগ্রহণ প্রক্রিয়ায় হাইব্রিড মডেল
আইসিসি জানিয়েছে, অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী দলগুলো টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং ও বাছাইপর্বের যৌথ মডেলে নির্ধারিত হবে।
বিশ্বসেরা দল হিসেবে ভারত অলিম্পিকে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে, র্যাঙ্কিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াও।
ভবিষ্যতের কাঠামো নিয়ে কাজ
এছাড়া আইসিসি বোর্ড সম্মেলনে তিন ফরম্যাটের (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি) ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে কাজ করতে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই গ্রুপের সুপারিশসমূহ সম্মেলনের শেষ দিনে প্রকাশিত হবে, যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সূচিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই তিন মাসের সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের জন্য একটি শেষ সুযোগ—যেখানে তারা নিজেদের প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রমাণ না করতে পারলে অলিম্পিকে নিজেদের জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।







