বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অস্কারজয়ী ডকুমেন্টারিয়ান মার্সেল ওফুলস আর নেই। তার ১৯৬৯ সালের চলচ্চিত্র “The Sorrow and the Pity” ফ্রান্সের নাৎসি শাসনের সময়কার প্রতিরোধ আন্দোলনের বহু প্রচলিত মিথ ভেঙে দিয়েছিল। সোমবার তার পরিবার মৃত্যুর খবর জানায়।
৯৭ বছর বয়সে ২৪ মে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছেন তার নাতি আন্দ্রেয়াস-বেনজামিন সেফার্ট, প্যারিসে দেওয়া এক বিবৃতিতে। তিনি ছিলেন বিখ্যাত জার্মান-ইহুদি চলচ্চিত্র নির্মাতা ম্যাক্স ওফুলসের পুত্র।
‘দ্য সোরো অ্যান্ড দ্য পিটি’ ছবির মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের ইতিহাসের এক বিতর্কিত অধ্যায় তুলে ধরেন। ক্লারমঁ-ফে-রাঁ শহরের অধিবাসীদের নাৎসি সহযোগিতার দলিল-সাক্ষাৎকারভিত্তিক বিশ্লেষণ ছিল এ ডকুমেন্টারির মূল বিষয়বস্তু। ছবিটি দেখায়, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে নাৎসি জার্মানির প্রতি সহানুভূতির স্পষ্ট প্রমাণ ছিল।
ফ্রান্সের এই ‘প্রতিরোধ নায়কত্বের’ ভাবমূর্তি ভেঙে দেয়ার কারণে ছবিটি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ফরাসি পাবলিক টেলিভিশনে নিষিদ্ধ ছিল। যদিও মার্সেল নিজে ছবিকে কোনো বিচারমূলক কাজ বলে দাবি করেননি। তার ভাষায়, “এটা কোনো অভিযোগের জন্য বানানো হয়নি, বরং শুধু টেলিভিশনের জন্য কাজ ছিল।”
চার ঘণ্টারও বেশি সময়ের এ ছবিটি এমন সময় মুক্তি পায়, যখন ডকুমেন্টারিকে বড় পর্দায় খুব একটা দেখানো হতো না।
১৯২৭ সালের ১ নভেম্বর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে জন্ম নেওয়া মার্সেল ওফুলসের প্রকৃত নাম ছিল হান্স মার্সেল ওপেনহেইমার। তার মা ছিলেন জার্মান অভিনেত্রী হিলদে ওয়াল এবং বাবা পরিচালক ম্যাক্স ওফুলস। নাৎসি জমানা থেকে পালিয়ে তারা প্রথমে ফ্রান্স, পরে ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান।
মার্সেল পরবর্তীতে হলিউডে বড় হয়ে ওঠেন, ১৯৪৬ সালে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫০ সালে ফ্রান্সে ফিরে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং তার পিতার শেষ চলচ্চিত্র “Lola Montès”-এ কাজ করেন।
১৯৬৩ সালে বানান “Banana Skin” নামে একটি কথাসাহিত্য চলচ্চিত্র, যা সফল হয়নি। এরপর থেকেই ফরাসি পাবলিক টেলিভিশনের জন্য ডকুমেন্টারি নির্মাণ শুরু করেন।
১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া “Hotel Terminus: The Life and Times of Klaus Barbie” নামের তথ্যচিত্রের জন্য তিনি অস্কার লাভ করেন।
তবে তার ১৯৯৪ সালের ডকুমেন্টারি “The Troubles We’ve Seen”, যা বসনিয়ার যুদ্ধ নিয়ে তৈরি, তেমন সাড়া ফেলেনি।
এরপর কয়েক বছর তিনি দক্ষিণ ফ্রান্সে নিভৃতে জীবন কাটান। অবশেষে ২০১৩ সালে কাম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে “Un Voyageur” দিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন।
নিজের বাবার প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “আমি একজন প্রতিভাবান ব্যক্তির ছায়ায় জন্মেছি। তাই নিজেকে নিয়ে অহংকার করার জায়গা ছিল না, বরং নম্রতা শিখেছি।”







