Home এশিয়া পেসিফিক অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানরা উদযাপন করতে যাচ্ছেন ইসলামের অন্যতম প্রধান উৎসব: ঈদুল আযহা

অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানরা উদযাপন করতে যাচ্ছেন ইসলামের অন্যতম প্রধান উৎসব: ঈদুল আযহা

197
0

আগামী শুক্রবার, দেশজুড়ে মুসলমানরা মিলিত হবেন ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য, যা ইসলামিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এবং হ্যাঁ, এদিন অনেক জায়গায় বারবিকিউয়ের আয়োজন দেখা যাবে।

ঈদুল আযহা ২০২৫ কখন?
আরাফাহ দিবস অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, যা অনুসারে ঈদুল আযহা হবে পরের দিন, শুক্রবার, ৬ জুন। এই তারিখ ঘোষণা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি ইব্রাহিম আবু মোহামাদ।

ঈদুল আযহা প্রতি বছর ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডারের শেষ মাস থুল হিজ্জাহ’র ১০ তারিখে পালন করা হয়।

কেন তারিখ বদলায়?
গত বছর ঈদুল আযহা হয়েছিল ১৬ জুন, রবিবার। তারিখ পরিবর্তনের কারণ হলো ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডার ও সূর্যভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্য; ইসলামিক ক্যালেন্ডার সাধারণত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের থেকে ১০-১২ দিন পিছিয়ে থাকে।

ঈদুল আযহা কী?
‘কুরবানি উৎসব’ নামেও পরিচিত ঈদুল আযহা, মহানবী ইবরাহিম (আব্রাহাম) এর ঈমান ও আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত হয়। তিনি আল্লাহর নির্দেশে তার পুত্রকে বলিদান দিতে প্রস্তুত ছিলেন।

ঈদুল আযহা হলো আত্মবিশ্লেষণ, প্রার্থনা এবং সামাজিক বন্ধনের সময়, যেখানে মুসলমানরা ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ঈদুল আযহা কীভাবে উদযাপন করা হয়?
অস্ট্রেলিয়ায় পশু কুরবানির ঐতিহ্যকে স্মরণ করে সাধারণত বারবিকিউয়ের মাধ্যমে ঈদ উদযাপিত হয়। ‘উদহিয়া’ অর্থ ‘বলিদান’—যাতে ছাগল, মেষ, গরু বা উটের কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা হয়।

পশুর মাংস সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়: পরিবার, বন্ধু এবং দুঃস্থদের জন্য।

অস্ট্রেলিয়ায় কুরবানি নিবন্ধিত জায়গায় এবং লাইসেন্সধারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ। অনেক মুসলমান বিদেশের দাতব্য সংস্থাকে অনুদান দেয় যাতে মাংস দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে।

কিছু এলাকায় স্থানীয় মুসলিম সমাজ ঈদ উৎসব আয়োজন করে, যেখানে খাবার, রাইড এবং বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে।

অতিরিক্ত ঈদ রীতিনীতি
অনেকেই নতুন পোশাক পরেন, উপহার বিনিময় করেন, মিষ্টান্ন খেয়ে দিন শুরু করেন বিশেষ নামাজ—‘সালাতুল ঈদ’—মসজিদ বা কমিউনিটি স্পেসে আদায় করে।

কে কে ঈদুল আযহা উদযাপন করে?
মূলত মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও অনেক অবলম্বী মুসলিম ও অ-মুসলিমরাও অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানগুলো সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মিশ্রণ।

ঈদে বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরি হয়, যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মআমুল, দক্ষিণ এশিয়ায় গুলাব জামুন, এবং ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় বাকলাভা।

এই বছর কি আমরা আগেই ঈদ করিনি?
হ্যাঁ, মার্চে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছিল, যা রমজান মাসের উপবাসের সমাপ্তি। আর ঈদুল আযহা হলো নবী ইবরাহিমের বলিদানের স্মরণে।

উভয় ঈদে প্রার্থনা, উৎসবমুখর খাবার এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো হয়, তবে উদ্দেশ্য ভিন্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here