Home Bangladesh আইসিইউ’র জন্য জেলা-উপজেলা ছুটছে বিভাগে

আইসিইউ’র জন্য জেলা-উপজেলা ছুটছে বিভাগে

65
0

দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি চলছে। এযাবৎকালের সব রেকর্ড ভেঙে তৈরি হয়েছে মৃত্যু ও শনাক্তের নতুন রেকর্ড। সোমবার (৫ জুলাই) দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৬৪ জন, যা মহামারিকালে একদিনে সর্বোচ্চ। এসময় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৯৬৪ জন। একদিনে দৈনিক শনাক্তের এত সংখ্যা এর আগে দেখেনি বাংলাদেশ।

এই ঊর্ধ্বগতি ও মৃত্যুর অন্যতম কারণ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট মে মাসে ৪৫ শতাংশ এবং জুন মাসে ৭৮ শতাংশ নমুনায় পাওয়া গেছে। বর্তমান দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে শনাক্ত হয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। এর মধ্যে অন্যতম রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলা। এসব জেলায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। এই বিভাগের হটস্পট বলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আধুনিক সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। এ কারণে জেলার সব রোগীকে ছুটতে হয়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পুরো বিভাগে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার এটাও অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, এ হাসপাতালে বাড়ছে করোনা রোগী। বিশেষ করে, চাঁপাইবাবগঞ্জ থেকে আসা রোগীর কারণে এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর অর্ধেকেরও বেশি এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের।

রাজশাহী বিভাগের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালেও নেই আইসিইউ। আইসিইউ চেয়ে ২৫০ শয্যার নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চিঠি পাঠালেও এখনও আলোর মুখ দেখেনি আইসিইউ বিভাগ। ফলে জটিল রোগীদের পাঠাতে হচ্ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। নাটোর সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান ও সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, আইসিইউ’র জন্য স্বাস্থ্য বিভাগে চিঠি দিয়েছেন তারা, কিন্তু এখনও কোনও জবাব পাননি।

একইভাবে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় রোগীদের খুলনা বা বরিশালে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন হাসনাত ইউসুফ জাকী।

রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, রোগীদের আইসিইউ দরকার হলে তাদের দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয়।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হলেও এখানে জটিল রোগীদের জন্য আইসিইউ নেই। কিন্তু যদি কোনও রোগীর আইসিইউ দরকার হয় সে ক্ষেত্রে রোগীদের কোথায় পাঠানো হয় প্রশ্নে শরীয়তপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকায় পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জনকে এ হাসপাতাল থেকে আইসিইউ’র অভাবে ঢাকায় পাঠাতে হয়েছে।’

আইসিইউ চেয়ে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ডা. এএসএম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ‘গত বছর করোনা মহামারি শুরু হলেই ডিমান্ড দিয়েছি, কিন্তু কোনও ডেভলপমেন্ট এখনও হয়নি।’

ঢাকা বিভাগেরই আরেক জেলা মাদারীপুরেও নেই করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসিইউ সুবিধা। এ জেলার সিভিল সার্জন শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদারীপুর জেলায় আইসিইউ নেই। তবে হয়তো পেয়ে যাবো।’

কবে নাগাদ হবে সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব জেলায় আইসিইউ হবে তার তালিকায় মাদারীপুর রয়েছে। কিন্তু সেটা কবে নাগাদ হবে সেটা বলতে পারছি না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের জন্য নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আইসিইউ নেই, অক্সিজেন নেই, বেড নেই, প্রশিক্ষিত জনবল নেই; তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর গত দেড়টা বছর ধরে কী করেছে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরকে এ জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত মন্তব্য করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তারা এই সময়টাতে কোথায় কী করেছেন তার পাই টু পাই হিসাব নেওয়া উচিত। আইসিইউর অভাবে যারা মারা গেছেন তাদের মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এরা এড়াতে পারেন না।’

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব জায়গায় আইসিইউ নেই সেসব জায়গায় আইসিইউ বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’ পরিকল্পনায় রয়েছে, সবই হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে কেবলমাত্র আইসিইউ স্থাপন করলেই হবে না। এর জন্য প্রশিক্ষিত জনবল দরকার। এ ঘাটতি পূরণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here