আধিপত্য নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতভর দুপক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১৫

আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের দুটি পক্ষের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশকিছু ঘর।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানিয়েছে, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের ‘আরসা’ ও ‘মুন্না’ পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

তবে এ ঘটনায় আহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, “ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরসা গ্রুপের নেতা মৌলভী আবু আনাস এবং মুন্না গ্রুপের নেতা মো. রফিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এর সূত্র ধরেই গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত আড়াইটা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় কুতুপালং ‘ই’ ব্লকের ১০ থেকে ১৫টি ঘর ভাঙচুর করা হয়।”

কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের হেডমাঝি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ছুরি ও লাঠির আঘাতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ও অন্যদের কুতুপালং এনজিও পরিচালিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

কুতুপালং ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছালে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’

এর আগে গত সোমবার দুপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ এক চালককে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠে। পরে ওই চালকের পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় অটোরিকশাচালক সমিতির নেতা শাহজানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্থানীয় লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরে এ ঘটনায় কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন বলে জানান সিএনজিচালিত অটোরিকশা সমিতির সভাপতি মুক্তার চৌধুরী।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

গতকাল রাতের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি।

Add Comment