আল্লামা শফী হত্যা মামলা : বাদী ও পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আজ শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মামলার বাদী ও আল্লামা শফীর শ্যালক মো. মঈনুদ্দিন।

আল্লামা শফীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে লিখিত বক্তব্যে মো. মঈনুদ্দিন জানান, তিনি মামলা করেছেন, যা আদালতের নির্দেশে এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

এ ঘটনায় হেফাজতের বর্তমান আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীর পক্ষে একটি চিহ্নিত মহল মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে বলে দাবি করেন মো. মঈনুদ্দিন। তিনি আরো বলেন, ‘মহলটি আহমদ শফীর পরিবার ও মামলার বাদী হিসেবে আমাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।’

হত্যা মামলাটির দ্রুতবিচার সম্পন্ন করাসহ আল্লামা শফীর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবিও জানিয়েছেন বাদী। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহী।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর অসুস্থ অবস্থায় আল্লামা আহমদ শফীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে আহমদ শফীকে ঢাকায় আনা হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হয়।

এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগ এনে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিবসহ ৩৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আদালতের বিচারক শিবলু কুমার দে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

এরপর গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দায়ের করা মামলাটি ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী। তিনি সেখানে বলেন, ‘আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এ ঘটনায় করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জুনাইদ বাবুনগরী আরো বলেন, আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর তিন মাস পর তাঁর মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে দাবি করে দায়ের করা মামলাটি ‘রাজনৈতিক দূরভিসন্ধিমূলক’ এবং দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ বিনষ্ট করার চক্রান্ত।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে ও মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক পদ থেকে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরের দিনও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আন্দোলনরত ছাত্রদের বিক্ষোভ বন্ধ না হওয়ায় পরের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে মহাপরিচালক আহমদ শফী নিজেই তাঁর পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন।

Add Comment