ইউএনওকে ধাক্কা দিয়ে তেড়ে গেলেন মেয়র

পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বেড়া পৌরসভার মেয়র আবদুল বাতেনের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তার সামনে গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

আবদুল বাতেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ভাই। বাতেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের চাল চুরির ঘটনা ধরা পড়ার পর তাঁর পক্ষে তদবির করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ আবদুল বাতেনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।

এদিকে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে ইউএনও আসিফ আনাম জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ ও সভায় উপস্থিত একাধিক জনপ্রতিনিধি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘গতকাল সোমবার ছিল বেড়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা। সভায় বেড়া পৌরসভার মেয়র আবদুল বাতেন উপজেলার কাজিরহাট ও নগরবাড়ি ঘাট ইজারা সংক্রান্ত আগে তৈরি করা একটি লিখিত রেজুলেশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে অনুমোদনের জন্যে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি নীতিমালা বহির্ভূত হওয়ায় ইউএনও তা অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানালে মেয়র বাতেন তাঁকে মারতে তেড়ে আসেন। উপস্থিত অন্য সদস্যদের হস্তক্ষেপে ইউএনওর গায়ে হাত দিতে পারেননি। তবে তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে জেনেছি। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করেছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, উন্নয়ন সমন্বয় সভায় উপস্থিত একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাজিরহাট ও নগরবাড়ি ঘাট সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার জন্য আগেই তৈরি করা একটি লিখিত সিদ্ধান্তের রেজুলেশন অনুমোদন দিতে বেড়া পৌরসভার মেয়র আবদুল বাতেন ইউএনওকে চাপ প্রয়োগ করেন। বিষয়টি মেয়রের এখতিয়ার বহির্ভূত এবং বিধিসম্মত নয় বলে ইউএনও তা অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় পৌর মেয়র বাতেন চরম উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় ইউএনওকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মারতে উদ্যত হলে সভায় উপস্থিত অন্যরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে সভাটি পণ্ড হয়ে যায় এবং ওই সভায় উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও অন্যসব কর্মকর্তার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিস্তারিত আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আর বলতে পারছি না।’

পৌর মেয়র আবদুল বাতেন লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউএনও দুটি বড় ঘাট ইজারার রেজুলেশন নিয়ে অযথা জটিলতা সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে তিনি শুধু আপত্তি জানিয়েছেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বেড়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন, পুরান ভারেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান এ এম রফিকুল্লাহ, জাতসাখিনী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু, রুপপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম উজ্জল হোসেন, আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক, বেড়া থানার ওসি আবুল কাশেম আজাদসহ উপজেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধান।

Add Comment