এনআরসির নামে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে: অমর্ত্য সেন

নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘সিএএ, এনআরসি ও এনপিআরের নামে যা হচ্ছে, তা অসাংবিধানিক। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। হিন্দু-মুসলমান রাজনীতি করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জয়ের নেপথ্যে ছিল যুদ্ধ এবং টাকা। রাজ্যের ভোটে সেসব কাজে লাগছে না।’

সিএএ ও এনআরসি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আমার মা–বাবার সার্টিফিকেট চাইলে আমি কোথা থেকে দেব?’

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি হলে প্রতীচী ইনস্টিটিউট ও এশিয়াটিক সোসাইটির একটি যৌথ গবেষণাপত্র অনুষ্ঠানে অমর্ত্য সেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আরও যত্নবান হওয়া উচিত। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তাঁর সমীক্ষা রিপোর্ট উল্লেখ করে বলেন, আজও ৭ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য সাত কিলোমিটারের বেশি পথ হাঁটতে হয়। যদিও ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী শিশুর বাড়ির এক কিলোমিটারের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কথা রয়েছে। ৬৮ শতাংশ শিশুর টিকাকরণের কার্ড থাকলেও টিকাকরণ হয়েছে ৫৮ শতাংশ শিশুর। ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা পরিবারের শৌচাগার নেই। আর ৫ শতাংশ শৌচাগার থাকলেও তা ব্যবহারযোগ্য নয়।

বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে অমর্ত্য সেন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে লোধাদের ৫১ শতাংশের বাড়িতে শৌচাগার নেই। তাদের ২৬ শতাংশ শিশুরা প্রাথমিক স্তরেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। অরণ্যের অধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং ১০০ দিনের কাজের মতো প্রকল্পের সুফলও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। তাদের বঞ্চিত করে রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অমর্ত্য সেন বলেন, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ নিয়ে সমাজের একটি বৃহৎ অংশের নানান ভুল ধারণা রয়েছে। সেই ধারণা বদলাতে হবে। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৪০টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনজাতিকে তফসিলি জনজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কিন্তু সেভাবে তাদের সচেতন করা হয়নি।

এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ঈশা মহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত চক্রবর্তী প্রমুখ।

Add Comment