করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল

করোনাভাইরাসে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। গতকাল মঙ্গলবার চীনে আরও ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৪৯ জন। এর ফলে চীনে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা হয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৫ জন। আর সারা বিশ্বের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতু হয়েছে ২ হাজার ১০ জনের।

প্রায় দুই মাস ধরে চীনের উহানের হাসপাতালগুলোয় জরুরি সেবা দিয়ে চলেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এড়ানো যাচ্ছে না মরণ–ভাইরাসের কামড়।

গত কয়েক দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও আক্রান্তের মধ্যেই কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। তবে এখনই এটা বলা সম্ভব নয় যে আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

গত বছরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। এরপর থেকে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল হুবেইয়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৯৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত সোমবারে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮০৭। তবে মৃত মানুষের সংখ্যা সোমবারের চেয়ে মঙ্গলবার বেড়েছে। সোমবার যেখানে ৯৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে মঙ্গলবার ১৩২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

করোনা থেকে বাঁচতে চুল কেটে ফেলছেন নার্সরা
করোনার থাবা থেকে বাঁচতে চুল কেটে ফেলতে হয়েছে চীনের নার্সদের। সংক্রমণের সমস্ত পথ বন্ধ করতে চুল কেটে ফেলেছেন নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা। এতে দুটি উপকার হবে বলে মনে করেন তাঁরা। প্রথমত, চুলের মাধ্যমে প্রাণঘাতী জীবাণুর সংক্রমণ এড়ানো যাবে। দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে ঢোকার পর যে সুরক্ষাবর্ম তাঁদের পরতে হয়, তা বদল করাও অনেক সহজসাধ্য এবং কম সময়ের মধ্যে হবে। নার্সদের এখন কাজ শুধুই রোগীদের দিকে নজর রাখা, ঠিকমতো চিকিৎসা করা। জরুরি সেবায় নিযুক্ত কর্মীরা এতই ব্যস্ত যে দিনে মাত্র একবার খাবার খাচ্ছেন।

করোনাভাইরাসের আতঙ্ক এবার গ্রাস করেছে জাপানকেও। এখন পর্যন্ত চীনের বাইরে যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে একজন জাপানের বাসিন্দা। এই দেশে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত হওয়ার এই পরিসংখ্যানে সেসব মানুষ আছেন, তাঁরা বর্তমানে জাপানের উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা জাহাজে ‘বন্দী’। চীনের পর এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের দাপট সবচেয়ে দেখা গেছে জাপানের ওই জাহাজে। তবে আশার কথা হচ্ছে, জাপানে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজের সুস্থ যাত্রীরা অবশেষে মুক্ত হচ্ছেন। করোনাভাইরাস পরীক্ষায় যাঁদের ফল নেগেটিভ এসেছে, তাঁরা আজ বুধবার জাহাজ ছাড়ার অনুমতি পেয়েছেন। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাজটিতে কোয়ারেন্টাইন (রোগ সংক্রমণের আশঙ্কায় পৃথক রাখা) করে রাখা হয় ৩ হাজার ৭০০ যাত্রীকে।

করোনাভাইরাসে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। সারা বিশের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ১০ জনের।জাহাজ থেকে হংকংয়ে নেমে যাওয়া এক যাত্রীর করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ ধরা পড়ার পর জাহাজটিকে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়। এরপর জাহাজে একের পর এক ব্যক্তি আক্রান্ত হতে থাকেন। চীনের বাইরে এই জাহাজে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়।

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসা পাঁচ শর মতো যাত্রীকে জাহাজ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন তাঁদের স্বপ্নের নৌযাত্রাকে দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জানালাবিহীন কেবিনে আটকে থাকতে থাকতে একঘেয়েমিতে ভুগেছেন অনেকে।

যাঁদের কোনো লক্ষণ ছিল না এবং পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে, তাঁদের কর্মকর্তাদের তরফ থেকে একটি সনদ দেওয়া হচ্ছে। সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এনকভে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই, এই ব্যক্তির সংক্রমণের সময়ে জ্বরসহ অন্য কোনো লক্ষণ ছিল না।’

ডায়মন্ড প্রিন্সেসের সুস্থ যাত্রীদের তিন দিনের মধ্যে জাহাজ ছাড়ার প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। কারণ, এখনো বেশ কিছু পরীক্ষার ফলাফল আসা বাকি রয়েছে। সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে যিনি এসেছেন, তাঁকেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে। সবশেষ যাত্রী নেমে যাওয়ার পর ক্রুদের নতুন করে কোয়ারেন্টাইন শুরু হবে। তবে ভাইরাসের আশঙ্কা থাকলেও জাহাজ থেকে সুস্থ ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইয়োকোহামাবাসী।

এর আগে জাহাজের সুস্থ মার্কিন যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার জাপানের রাজধানী টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর থেকে মার্কিন সরকারের দুটি বিমানে করে যাত্রীদের নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহাজটিতে ৪০০ জন মার্কিন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন মার্কিন নাগরিক। তাঁদের জাপানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

Add Comment