Home Bangladesh করোনা: গরমে ফেস মাস্ক পরেও কীভাবে শীতল থাকবেন

করোনা: গরমে ফেস মাস্ক পরেও কীভাবে শীতল থাকবেন

76
0

ঢাকা: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় ফেস মাস্ক পরা জীবনযাত্রার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু গরম আবহাওয়ার মধ্যে প্রতিনিয়ত মাস্ক পরে থাকা একইসঙ্গে অস্বস্তিকর এবং কষ্টদায়ক।

মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় নিজেকে শীতল রাখার বিষয়টি কঠিন মনে হলেও নীচের কয়েকটি টিপস কিছুটা হলেও কাজে দেবে।

লন্ডনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা-এনএইচএস হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আদিল শেরাজ বলেছেন, আমাদের সবাইকে এখানে মাস্ক পরে থাকতে হয়। তবে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে আপনি কিছু করতে পারেন।

এক্ষেত্রে তার প্রথম পরামর্শটি হল, তুলা বা বাঁশের তৈরি একটি মাস্ক বেছে নেওয়া। যেগুলোর মধ্যে দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের নেয়া অনেক সহজ।

তিনি বলেন, একদিকে সাদা আরেকদিকে নীল বা অন্য রং দেয়া সার্জিক্যাল মাস্ক অনেক পাতলা হলেও এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের উপযোগী উপাদান দিয়ে তৈরি না।

এই মাস্ক আপনাকে ভাইরাস ছড়ানোর হাত থেকে সুরক্ষা দিলেও, এর ভেতরে নিঃশ্বাস ফেলা কষ্টের এবং নিজেকে শীতল রাখার জন্য এই মাস্ক ভাল নয়।

তবে তিনি এটাও বলেছেন যে সুতির মাস্ক মুখকে ঠান্ডা রাখলেও এর একটি নেতিবাচক দিক হল এ ধরণের মাস্ক যেকোনো তরল শোষণ করে। এতে মাস্কটি স্যাঁতসেঁতে হয়ে যেতে পারে – তাই তিনি গরমের দিনে হাতের কাছে একাধিক মাস্ক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

সঠিক রঙের মাস্ক বেছে নিলে সেটা আপনাকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করতে পারে। গাড় রঙের মাস্কের বদলে এমন মাস্ক বেছে নিন যেটার রং হালকা।

ডাঃ শেরাজ বলেন, গাড় রঙের কাপড় আলো শোষণ করে যা তাপে রূপান্তরিত হয়। এতে গাড় রংয়ের কাপড় খুব দ্রুত গরম হয়ে যায়।

গরম আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়ার আগে আপনার মাস্কটি কিছু সময় ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে পরা যায়?

এমন প্রশ্নে ডা. শেরাজ বলেন, এই ধারণা খুব একটা খারাপ নয়। কিন্তু মানুষকে আমি এটা করার পরামর্শ দেব না। কারণ আমার মনে হয়েছে মাস্ক কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ব্যবহারের কারণে মানুষের কোল্ড বার্ন হতে পারে।

ডাঃ অনিল বুধ-রাজা, বার্মিংহাম এবং চিসউইকের ক্লিনিকগুলিতে ত্বক এবং কসমেটিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে একটি তোয়ালে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখার পর, এটিকে একটি মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্রিটেনের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মুখ ঢাকার মতো যেকোনো কিছু নাক এবং মুখকে নিরাপদে ঢাকতে পারে – তবে মাস্কটি যেন অবশ্যই আপনার মুখের সাথে আঁটসাঁট হয়ে আটকে থাকে। মনে রাখবেন গ্রীষ্মের উত্তাপে মুখের ঘামে মাস্ক পিছলে সরে যেতে পারে। যা বেশ বিব্রতকর।

ডাঃ শেরাজ বলেছেন, চেষ্টা করুন মেক-আপ বা সাজসজ্জা এড়িয়ে চলতে,”কারণ মুখে থাকা প্রসাধনী ঘাম গলে গিয়ে আপনার লোমকূপের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিতে পারে। সবচেয়ে ভাল হয় ওয়াটার বেজড সান ব্লক বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। অর্থাৎ যে সানব্লক, বা ক্রিম পানি-পানি হবে এবং মুখে দিতেই মিলিয়ে যাবে।

ডাঃ বুধ-রাজা নিয়মিত সানক্রিম লাগানো বেশ প্রয়োজন বলে মনে করছেন। কারণ গরমের এই সময়ে সূর্যরশ্মির তীব্রতা অনেক বেশি থাকে।

তিনি বলেন, মাস্ক পরা সত্ত্বেও এই মাস্কের ভেতর দিয়ে UVA এবং UVB রশ্মি ভেদ করতে পারেন। মাস্ক পরার আগে মুখে সান ক্রিম লাগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, আপনি যদি সঠিক ধরণের সানব্লক ব্যবহার করেন তবে আপনার লোমকূপ বন্ধ হবে না।

তিনি বলেন, ডাঃ বুধ-রাজা মুখে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম লাগানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে”। “তবে এই সিরাম মুখ লাগানোর আগে সেটা কিছুক্ষণ ফ্রিজে ঠান্ডা করতে নিতে পারেন। এই ঠান্ডা সিরাম আপনাকে কিছুক্ষণ শীতল রাখতে সাহায্য করবে।

ফেসশিল্ড কাজে দেবে?

আজকাল অনেকেই ফেস শিল্ড কিনে পরছেন। অনেকে এটা ফেসমাস্কের পরিবর্তে ব্যবহার অনেক। আবার অনেকে ফেসমাস্কও পরেন, শিল্ডও পরেন।

আপনি যদি শিল্ড পরে থাকেন তাহলে মনে রাখবেন যে এটি সাধারণত আপনার কপালের সাথে একটি হেডব্যান্ড দিয়ে আটকানো থাকে। কিন্তু গরমের দিনে কপাল ঘেমে এই শিল্ড পিছলে যেতে পারে।

তাই শিল্ড যদি পরতেই হয়, তাহলে কিছুক্ষণ পর পর সেটা সরিয়ে ঘাম মুছে নিতে ভুলবেন না।

আর্দ্র থাকুন

হাতের কাছে পানির বোতল রাখা বেশ ভাল অভ্যাস। তবে মুখে মাস্ক পরার জন্য আপনি যদি সেই পানি না খান তবে আপনি পানিশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

ঠান্ডা পানি খাওয়ার জন্য কিছু সময়ের জন্য মাস্কটি মুখ থেকে সরালে কোনও সমস্যা নেই – তবে মাস্কে হাত দেয়ার আগে ও পরে হাত পরিষ্কার করে নিতে ভুলবেন না। সবার থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে, তবেই মাস্কটি খুলবেন।

আরও কিছু ছোট ছোট অভ্যাস আপনাকে সার্বিকভাবে শীতল রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন, ডাঃ শেরাজ।

তিনি বলেন যে, দিনের কাজগুলো এমন সময়ে করার পরিকল্পনা করুন যেন কড়া রোদে বা গরমে বের হতে না হয়। ঠান্ডা সময়গুলোয় কাজ সেরে নিন। এছাড়া রোদ টুপি আপনাকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।

এশিয়ার কয়েকটি দেশে অনেক আগে থেকেই মাস্ক পরা নিয়মিত অভ্যাসের মধ্যে পড়ে। তারমধ্যে কিছু দেশ গরম আবহাওয়ার।

তাই ওইসব দেশে থাকেন এমন মানুষর কাছ থেকে এ বিষয়ে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।

এছাড়া ব্যাটারিচালিত একটি পাখা সঙ্গে রাখতে পারেন।

জোন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, গরমের কারণে কারও যদি হালকা মাথাব্যথা হয়, ক্লান্তি অনুভব করে বা গরমের কারণে শ্বাস ফেলতে কষ্ট হয় তাহলে দ্রুত ওই ব্যক্তিকে শীতল কোথাও নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা সতর্ক করে বলেছেন, মাস্ক পরা অবস্থায় কেউ হিট স্ট্রেস কীভাবে মোকাবিলা করবে সেটা নির্ভর করবে গরমের তীব্রতা, তিনি কতো সময় ধরে গরমের মধ্যে ছিলেন এবং তার অন্য কোন রোগ আছে কিনা সেটার ওপর।

মাস্কের ধরণ নির্বিশেষে, মাস্ক পানিতে ভিজিয়ে আপনার মুখকে শীতল করার চেষ্টা করবেন না। মাস্ক ভেজা থাকলে সেটার বাতার পরিশুদ্ধ করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here