Home International করোনা থেকে জরুরি সুরক্ষা দিতে যুক্তরাজ্যে অ্যান্টিবডির ট্রায়াল

করোনা থেকে জরুরি সুরক্ষা দিতে যুক্তরাজ্যে অ্যান্টিবডির ট্রায়াল

87
0

নভেল করোনাভাইরাস থেকে জরুরি সুরক্ষা দিতে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা কয়েকজন ব্যক্তির শরীরে অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ধরনের ট্রায়াল আগে কখনো হয়নি বলে সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আটদিনের মধ্যে করোনা রোগীর সংস্পর্শে গেছেন যুক্তরাজ্যের এমন দশজনের শরীরে জরুরি সুরক্ষা হিসেবে এই অ্যান্টিবডি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে করোনার টিকা আবিষ্কার হয়েছে এবং একাধিক দেশে টিকার প্রয়োগও শুরু হয়েছে। এবার এই অ্যান্টিবডি ইনজেকশনটিতে সাফল্য এলে যাঁরা টিকা নেননি বা নিতে পারবেন না এমন লোকজনকে রক্ষায় কাজে লাগতে পারে। এর ফলে সংক্রমণের মাত্রাও কমতে পারে।

যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এনএইচএস ট্রাস্টের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালস (ইউসিএলএইচ) এই ট্রায়াল শুরু করেছে। ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা এটি তৈরি করেছে। ইউসিএলএইচ দেখতে চাইছে, শরীরে করোনাভাইরাসের বেড়ে ওঠা ঠেকাতে এবং কাউকে ব্যাপকভাবে অসুস্থ হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে কি না।

যুক্তরাজ্যের লন্ডন ছাড়াও ম্যানচেস্টার, সাউদাম্পটন, ওয়েকফিল্ড ও হাল শহরে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় ট্রায়াল চালানো হবে এই ওষুধের।

ইউসিএলএইচের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাথেরিন হুলিহান জানিয়েছেন তারা এক হাজার স্বেচ্ছাসেবী চাইছেন। যেসব এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা বেশি সেসব এলাকার স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী হতে গেলে নিকটস্থ বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে।

ডা. হুলিয়ান বলেন, ‘যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তাদের দান করা অ্যান্টিবডি নিয়ে এই অ্যান্টিবডি চিকিৎসা করা হচ্ছে। ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম এটি। কারো শরীরে এরই মধ্যে করোনাভাইরাস দেখা দিলে বা ছড়িয়ে পড়লে টিকা দেওয়ার মতো সময় পাওয়া যায় না সাধারণত। সেক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে বলে আশা করছি।’

প্রসূতি মায়েদের বসন্ত রোগেও এই পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়ে থাকে বলে জানান ডা. ক্যাথেরিন হুলিয়ান।

লন্ডনে যে ট্রায়াল হয়েছে তার ফল আসতে মার্চের শেষদিক বা এপ্রিল নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সফল হলে এক বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারবে এই ওষুধ। স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরতরা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা আক্রান্ত হলে এটি দেওয়া যাবে। আবার শিক্ষার্থী হোস্টেলের মতো জায়গায় হঠাৎ দু-একজন আক্রান্ত হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

তা ছাড়া টিকা পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে কয়েক সপ্তাহ নেয়। কিন্তু কারো শরীরে যখন ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে তখন এই ইঞ্জেকশন হয়তো সুরক্ষা দিতে পারবে।

এ ছাড়া ইউসিএলএইচ আরেকটি ট্রায়াল চালাচ্ছে, যাতে দেখা হচ্ছে করোনায় আক্রান্তের সংস্পর্শে আসার আগে একই অ্যান্টিবডি নিলে তা মানুষকে করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে কি না। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম অথবা কেমোথেরাপির মতো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এমন চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যাপক কাজের হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here