Home Bangladesh খুনি মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত

খুনি মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত

26
0

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজয়ের অন্তিম লগ্নে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে এদেশের সূর্য সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের সাহায্য করে বাংলাদেশেরই কিছু ঘৃণিত লোক (আল বদর বাহিনী), যারা জাতির মেধাবী সন্তানদের চিনিয়ে দিয়েছিল। তারা পাকিস্তানি সৈন্যদের বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি চিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, এমনকি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পর তাদের অনেকে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে দুইজনের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে। এদের একজন চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এবং অপর জন আল বদর বাহিনীর সদস্য আশরাফুজ্জামান খান। এই দুই পলাতক খুনিকে দেশে ফেরত আনতে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

চৌধুরী মুঈনুদ্দীন

দেশ স্বাধীনের পরে চৌধুরী মুঈনুদ্দীন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যায় এবং পরে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয় এই খুনি।

বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে ২০১৩’র ৩ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো মুঈনুদ্দীনকে ফেরত পাঠানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মুঈনুদ্দীনের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হবে এই মর্মে লিখিত চিঠি দিতে বলে যুক্তরাজ্য।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনও বিধান নেই।

এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৬ তে দুই দফা বিভিন্ন তথ্য চায় যুক্তরাজ্য এবং ওই তথ্য তাদেরকে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনকে এ নিয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার জন্য ২০১৯ এ চিঠি দেয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাজ্যের নাগরিক মুঈনুদ্দীন বিতর্কিত এনজিও মুসলিম এইডের চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে দেখা করে মুঈনুদ্দীনের বিষয়ে আবারও তথ্য চেয়েছেন।

যুক্তরাজ্যকে সব তথ্য দেওয়ার পরে কেনও আবার তথ্য চাইছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সময়ক্ষেপণের কৌশল বলে মনে হচ্ছে।

এই বছর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চতুর্থ স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগে বাংলাদেশে দণ্ডিত অপরাধীদের ফেরত আনার বিষয়টি আলোচিত হয় এবং এজন্য যে আইনি কাঠামো দরকার অর্থাৎ মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তি করার আলোচনা শুরু করতে উভয়পক্ষ রাজি হয়েছে বলে তিনি জানান।

আশরাফুজ্জামানখান

আরেক খুনি আশরাফুজ্জামান খান ১৯৭২ সালে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। চৌধুরী মুঈনুদ্দীনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয় খুনি আশরাফুজ্জামান।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণ করার পরে নাগরিকত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে। আশরাফুজ্জামানকে ফেরত পাঠানোর জন্য ২০১৩’র ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনও জবাব দেয়নি।

দুই দেশের মধ্যে আসামি বিনিময়ের জন্য মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট ২০১৮’র নভেম্বরে তাদের ওইসময়ে চলমান তদন্তের জন্য আশরাফুজ্জামান সম্পর্কে কিছু তথ্য চায় যা ২০১৯ এর জানুয়ারিতে পাঠানো হয়। ২০১৯’র ডিসেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসকে আশরাফুজ্জামানকে ফেরত আনার বিষয়ে আরও বেশি যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছে আশরাফুজ্জামান বলে আমরা জানি। সে নিউ ইয়র্কে বসবাস করতো।

এ বিষয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, যতদূর শুনেছি আশরাফুজ্জামানকে ফেরত দেওয়া হতে পারে এই ভয়ে সে কানাডা পালিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, কানাডাতে মৃত্যুদণ্ড প্রথা নেই এবং কোনও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ওইদেশ ফেরত দিতে চায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here