Home বাংলাদেশ National গণভোট সফল করতে নির্বাচন কমিশনকেও মাঠে নামতে হবে: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

গণভোট সফল করতে নির্বাচন কমিশনকেও মাঠে নামতে হবে: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

109
0

আসন্ন গণভোটকে ঘিরে জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব শুধু সরকারের একার হলে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তার মতে, নির্বাচন কমিশনেরও (ইসি) উচিত গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সরাসরি মাঠে কাজ করা। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব সরকার নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বুধবার সকালে ঢাকার তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের শিরোনাম ছিল—‘গণভোট ২০২৬: কী ও কেন?’ যেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো ভবিষ্যতের জন্য কোনো গঠনমূলক অঙ্গীকার করছে না। তিনি জানান, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একনায়কতান্ত্রিক আচরণ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভাঙন মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি আবার সেই পুরনো অবস্থায় ফিরে যেতে চাই? নাকি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র চায় দেশ?”

গণভোটকে সামনে রেখে সরকারের প্রচার সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণভোটে হ্যাঁ বা না—কোনটি প্রাধান্য পাবে, তা নির্ভর করবে জনগণের ওপর। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব শুধু ভোট পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত হতে হবে।”

২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাখাওয়াত বলেন, এবারও নির্বাচন কমিশনের উচিত জনগণকে বোঝানো—গণভোট কী, কেন এবং কীভাবে এটি কার্যকর হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সুজনসহ নাগরিক সংগঠনগুলোকে সরকারের প্রচারের বাইরে গিয়ে গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেন উপদেষ্টা। তার মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তারা ইতোমধ্যেই তরুণ ও নারী ভোটারদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। গণভোটকে তিনি জনগণের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা লেগে থাকব।”

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তিন দফা আলোচনার মাধ্যমে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি বিষয় সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই বিষয়গুলো নিয়েই হবে গণভোট, যাতে একটিমাত্র প্রশ্ন থাকবে—আপনি সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ দেবেন, না বিপক্ষে না?

সুজনের সহসভাপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বৈঠকের সভাপতি হিসেবে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং জনগণের সামনে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। গণভোটের পক্ষে ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে প্রচার চালানো কার্যকর হতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুজনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তাঁরা সবাই গণভোটকে ভবিষ্যতের গণতন্ত্র রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একে সফল করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here