২০২৫ সাল গুগলের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তি খাতে একটি বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট—গুগল ডিপমাইন্ড ও গুগল ক্লাউড—থেকে একে একে শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী, প্রকৌশলী ও গবেষকেরা প্রতিষ্ঠান ছাড়ছেন। এদের অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটসহ অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিতে যোগ দিয়েছেন, যা গুগলের জন্য এক নতুন প্রতিযোগিতার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে প্রযুক্তি দুনিয়ায় চলমান এআই প্রতিভা অর্জনের লড়াইয়ে মাইক্রোসফট যেমন গুগল থেকে বেশ কয়েকজন টেক-লিডারকে দলে টানছে, ঠিক তেমনিভাবে অ্যাপলের এআই বিভাগ মূলত মেটার কাছে প্রতিভা হারাচ্ছে। তবে চাকরির বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখনো শীতল, বিশেষ করে বিগ টেক কোম্পানিগুলোর মধ্যে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিযোগিতার শিকড় ডিপমাইন্ডের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা ডেমিস হাসাবিস ও মুস্তাফা সুলেইমানের মধ্যে নীতিগত বিভেদে নিহিত। ২০১০ সালে শেন লেগকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ডিপমাইন্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১৪ সালে গুগল প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যে অধিগ্রহণ করে। তবে সময়ের ব্যবধানে সুলেইমান গুগল ছাড়েন ও ইনফ্লেকশন এআই নামে নতুন একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে মাইক্রোসফট এই স্টার্টআপ ও পুরো টিমকে প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে সুলেইমান মাইক্রোসফটে কনজ্যুমার এআই বিভাগের নেতৃত্বে আছেন।
গুগল থেকে যেসব শীর্ষ প্রকৌশলী ও গবেষক বিদায় নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অমর সুব্রামানিয়া, যিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় গুগলে কাজ করার পর জুলাইয়ে মাইক্রোসফটে করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যোগ দেন এবং পরে অ্যাপলে যান। প্রায় দুই দশক গুগলে কাজ করা অ্যাডাম সাদোভস্কি মাইক্রোসফটের এআই ইউনিটে যোগ দেন জুনে। অন্যদের মধ্যে আছেন ডিপমাইন্ডের প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার সোনাল গুপ্তা, গুগলের গ্লোবাল কাস্টমার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান স্টিভ রেজিনি এবং ডিপমাইন্ডের এআই গবেষক জোনাস রথফুস, যাঁরা সকলেই নতুন গন্তব্য হিসেবে মাইক্রোসফটকে বেছে নিয়েছেন।
নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়েও গুগল বড় ধরনের রদবদলের মুখে পড়েছে। আলবার্ট লি, যিনি গুগল ক্লাউড ও ডিপমাইন্ডের করপোরেট ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ডিরেক্টর ছিলেন, তিনি ওপেনএআইতে যোগ দিয়েছেন। টিম ফ্র্যাঙ্ক, সুনিল পট্টি, ব্রায়ান হল, ডেভ সিট্রন এবং ওয়ারেন বার্কলির মতো শীর্ষ ব্যবস্থাপকরা বিভিন্ন কোম্পানিতে চলে গেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে নেতৃত্ব ধরে রাখতে মাইক্রোসফট বর্তমানে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক নিয়োগ কৌশল গ্রহণ করেছে। গুগল যেমন নতুন প্রতিভা আকর্ষণ করতে চাইছে, তেমনি বিদ্যমান দক্ষ জনবল ধরে রাখতেও চাপের মধ্যে পড়েছে। তাই ২০২৫ সাল গুগলের জন্য শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নয়, বরং মানবসম্পদ রক্ষা ও নেতৃত্ব ধরে রাখার দিক থেকেও একটি বড় চ্যালেঞ্জের বছর হয়ে উঠেছে।







