Home International চীন-ইরান চুক্তিতে বদলে যাচ্ছে এশিয়ার ভূ-রাজনীতি?

চীন-ইরান চুক্তিতে বদলে যাচ্ছে এশিয়ার ভূ-রাজনীতি?

79
0

যুক্তরাষ্ট্রকে তোয়াক্কা না করে চীন ও ইরান তাদের মধ্যে ২৫ বছরের একটি ‘কৌশলগত সহযোগিতার’ চুক্তি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, তাদের মন্ত্রিসভায় চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদিত হয়েছে। বাকি রয়েছে দুই দেশের পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং দুই প্রেসিডেন্টের সই। পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধে বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীন ও ইরানের এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য তথা এশিয়ার বিরাট একটি অংশের ভূ-রাজনৈতিক চালচিত্র বদলে দেবে।

২০১৬ সালে ইরান সফরের সময় আয়াতোল্লাহ খামেনির সাথে বৈঠকের সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তির প্রস্তাব করেন

চীন ও ইরানের সরকার এখনও এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও নিউ ইয়র্ক টাইমস ও হংকংভিত্তিক এশিয়া টাইমসসহ বেশ কিছু শীর্ষ মিডিয়া ১৮-পাতার খসড়া চুক্তির অনুলিপি হাতে পেয়েছে। জানা গেছে, তাতে ইরানের তেল-গ্যাস, ব্যাংকিং, টেলিকম, বন্দর উন্নয়ন, রেলওয়ে উন্নয়ন এবং আরও কয়েক ডজনখানেক গুরুত্বপূর্ণ খাতে চীন ব্যাপক বিনিয়োগ করবে।

এই বিনিয়োগের পরিমাণ আগামী ২৫ বছরে কমপক্ষে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিতে সামরিক ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ, মহড়া, গবেষণা, যুদ্ধাস্ত্র তৈরি এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কথা রয়েছে।

মিডলইস্ট আই নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় চীন তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষায় ইরানে পাঁচ হাজার পর্যন্ত সৈন্য মোতায়েন করতে পারবে। সুতরাং এই চুক্তি সই হলে, মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রথম সরাসরি চীনা সামরিক উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিনিয়োগের বদলে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে চীনকে অনেক ছাড় দেবে ইরান। বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে তেল-গ্যাস পাবে চীন এবং চীনা মুদ্রায় সেই দাম পরিশোধ করতে পারবে।

মিডিয়ায় ফাঁস হওয়া চুক্তির এসব শর্ত নিয়ে ইরান বা চীনের সরকারের পক্ষ থেকে খোলাসা করে কিছু বলা হয়নি। তবে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা ‘(চীনের সঙ্গে প্রস্তাবিত এই চুক্তি) ইরানের কূটনীতির জন্য গর্ব করার মতো একটি অধ্যায়।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন কাবেহ আফছার সারসাইয়াবি। হংকংয়ের দৈনিক এশিয়া টাইমসে এক নিবন্ধে তিনি বলছেন, ইরান যদি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয় তাহলে ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির কৌশলগত সমীকরণ বদলে যাবে। তিনি বলেন, ‘খুব ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে চীন, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি কৌশলগত জোট দানা বাঁধছে, যার সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে যুক্ত হবে আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়া।’

তার মতে, নতুন এই ভূ-রাজনৈতিক সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রর তো বটেই, তার মিত্র ভারতের জন্যও নিঃসন্দেহে মাথাব্যথার কারণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here