Home বাংলাদেশ National জাতীয় নির্বাচনে চার জেলায় পুলিশের বিশেষ নজর

জাতীয় নির্বাচনে চার জেলায় পুলিশের বিশেষ নজর

137
0
Signature: ODVsxVoaO04h67asYaCr+hAg10na+M4XeheWkVTbokeLv628bA25Q0yYw8C8kHZNYHupPblIKd8rycHCw2K2shCQlp9106XuODDoJ3snVsgCBXq4fI4eb7/hBsaLOdYzqJpd3rTTRq7waxOfgLgFKJ6OrWkVRdzcvU6tqQvwNKsKmG5KqXcNjHclW08MAO9fIby/DuiOVu5CPYTaa8CcszGkV/0/nY/R2t2uuFGU6Vw8q6FTrFh0HUWdmTfwdKIyRs5OdR6ICmAA/k4T+Fv5so6CzaiegZHTuXDYMUT5CIXc7+hAMcPLS7elt83bwhn19zNAkK4R86Xq1NNdc4Y0Nw==

নির্বাচন সামনে, চার জেলায় বাড়তি নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের চারটি জেলা—গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুরকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, সহিংসতা কিংবা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কেন্দ্রে আসা ঠেকানোর আশঙ্কা রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে চারটি জেলায় নেয়া হয়েছে ভিন্নমাত্রার নিরাপত্তা পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পুলিশ সুপারদের মাধ্যমে স্থানীয় ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় নিরাপত্তা রূপরেখা চূড়ান্ত করে তা পাঠানো হচ্ছে সদর দপ্তরে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জে ২০২৪ সালে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং এনসিপির এক সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী খুলনা ও বাগেরহাট জেলাকেও রাখা হয়েছে বাড়তি সতর্কতার আওতায়।

আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, “ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাওয়া, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়া এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরা—এই তিনটি নিশ্চিতে আমাদের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে যেন আস্থার সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।”

ডিজিটাল নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং কেন্দ্র দখলের শঙ্কায় এবার নির্বাচনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ২৫ হাজারের বেশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ৫০০ ড্রোন এবং প্রায় ৫০টি ডগ স্কোয়াড নিয়োজিত থাকবে। বডি-ক্যামেরার মধ্যে ১৫ হাজারে থাকবে সিম সংযোগ, যা সরাসরি ইন্টারনেটে ভিডিও স্ট্রিমিং করতে পারবে। বাকি ক্যামেরাগুলো অফলাইনে থাকলেও প্রয়োজন হলে রেকর্ড চেক করে তদন্তে ব্যবহার করা যাবে।

প্রতিটি জেলা ও মহানগরে স্থাপন করা হয়েছে আলাদা মনিটরিং সেন্টার। কোথায় কী ঘটছে তা সরাসরি নজরে রাখার জন্য এসব সেন্টার থেকেই নেয়া হবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত।

সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২১,৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগেই ক্যামেরা ছিল এবং বাকি কেন্দ্রগুলিতে দ্রুত ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। বিদ্যুৎ না থাকা ২৯৯টি কেন্দ্রেও সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রার্থীদের জন্য তিনস্তরের নিরাপত্তা

নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ায় বিভিন্ন প্রার্থীকে সরবরাহ করা হয়েছে সার্বক্ষণিক গানম্যান, বাসা প্রহরা ও পুলিশের প্রটোকল গাড়ি। অন্তত ১৮ জন প্রার্থী এই বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় এসেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা, এনসিপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের প্রার্থীদেরও রাখা হয়েছে এই তালিকায়।

এছাড়াও, নির্বাচনের আগের দিন থেকে ভোটের পর সাত দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৯ লাখ সদস্য এবার নির্বাচনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে দেড় লাখ পুলিশ, এক লাখ সেনা, পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্য, এবং বাকি অংশে থাকবেন র‍্যাব, বিজিবি, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা।

সাম্প্রতিক নজরদারি ও কেন্দ্রীয় তদারকি

আইজিপি বাহারুল আলম সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দেশের সব জেলা পুলিশ সুপার ও মহানগর পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হচ্ছেন। এসব বৈঠকে নিরাপত্তা ঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে বিশদ আলোচনা হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে আস্থা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ডিজিটাল নজরদারিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের দিন সব তথ্য, ছবি ও ভিডিও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো গোলমাল বা অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে এবং ফুটেজ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here