Home বাংলাদেশ National জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি

জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি

437
0

জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের সহযোগী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে। মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি বর্তমানে রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচিত।

১৩৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মো. আব্দুস সোবহান তরফদার ও মো. মিজানুল ইসলাম।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে বলা হয়, আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা সেবায় বাধা দেয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগ সমর্থকরা দায়ী। অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়া, হাসপাতালের আশপাশে নজরদারি, আহতদের চিকিৎসার পরিবর্তে গ্রেপ্তার, চিকিৎসকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বদলি এসব বাধার অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও চিকিৎসা রেকর্ড জব্দ, মিথ্যা রিপোর্ট তৈরির চাপ, আহতদের আঘাত গোপন রাখা এবং চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে বিভিন্ন সাক্ষ্য ও ভিডিওর মাধ্যমে। এমনকি হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মৃত্যু দুর্ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে চিকিৎসকদের হুমকি দেওয়া হয়।

একাধিক হাসপাতালে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা চাপে পড়েন। কিছু ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সরাসরি চিকিৎসা বন্ধের নির্দেশ দেন, যা অমান্য করায় চিকিৎসকদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিশেষ করে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে আহতদের গোপনে নারী ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাতে ছাত্রলীগের নজরদারি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এই সব ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে দায় আরোপ করে অভিযোগ নম্বর ১২৭ নিবন্ধিত হয়। তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন উপ-পরিচালক মো. আলমগীর, যার ভিত্তিতে ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলাটিতে ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হয় এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে ৩ আগস্ট। ইতিমধ্যে ২৫ জুন পর্যন্ত এই ধরনের আরও ২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনাসহ ২০৬ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ৭৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। একজন আসামির কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here