ট্রাম্প-মোদি গলাগলি, কে কী পেলেন

৩৬ ঘণ্টার সফর শেষ করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভারত ত্যাগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে দুই পক্ষে যত গলাগলি হয়েছে, ততটা কাজের কথা হয়নি। বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা হলেও কী আলোচনা হবে, তার কোনো রূপরেখা আসেনি। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

শুরু থেকেই ট্রাম্পকে খুশি করতে যথাসাধ্য সবকিছুই করেছেন নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন ট্রাম্প দম্পতি। সমাদৃত হয়েছেন ট্রাম্প–কন্যা ইভাঙ্কা ও তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনার।

এই সফরে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প ও মোদি। দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যেও কথা হয়েছে। পুরো সফরের সাফল্য, ৩০০ কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি নিয়ে দুই দেশ একমত হওয়া এবং তিনটি সমঝোতাপত্রে সই। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অ্যাপাচে ও রোমিও হেলিকপ্টার কিনবে ভারত। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, বাণিজ্য নিয়ে খুব কমই আলোচনা করেছে দুই দল। বহু আলোচিত কোনো বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদিত হয়নি এই সফরে। দুজনেরই বক্তব্য, এই আলোচনা চলবে। সফরকারী নেতা কাশ্মীর সম্পর্কে তাঁর মতামত পরিবর্তন করেননি। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প ভারতে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিষয়টিও উত্থাপন করেছিলেন। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা ভারতও বুঝবে।

বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে নিজ দেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ভোট পাওয়ার বেশ চেষ্টা চালালেন ট্রাম্প। দ্বিতীয়বার নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে এই সফর ভোটারদের কাছে তাঁর ইমেজ বাড়াবে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প–মোদির রসায়নটাও বেশ ভালো ছিল। পুরো সময় মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। মোদিকে ‘শক্ত’, ‘ভয়ংকর’ এবং ‘দুর্দান্ত কাজ করছেন’ বলে প্রশংসা করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে আপ্যায়ন করতে আয়োজনের কোনো কমতি রাখেননি মোদি। সব মিলিয়ে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ সফর করে গেলেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক আছেন এবং দেশটির রাজনীতিতে ভারতীয়রা একটি ক্রমবর্ধিঞ্চু শক্তি হিসেবে বেড়ে উঠছে। সাধারণত, তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে থাকেন। ন্যাশনাল এশিয়ান আমেরিকান সার্ভে অনুযায়ী, ২০১৬ সালের নির্বাচনে মিস্টার ট্রাম্প ভারতীয় মাত্র ১৬ শতাংশের ভোট পেয়েছেন। তাই এবার ২০২০–এর নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের নিজের দিকে নিতে চান ট্রাম্প—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Add Comment