ডিএসইতে মিনহাজ মান্নান ইমনের পদ শূন্য ঘোষণা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারধারী পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমনের পদ শূন্য ঘোষণা করেছে এক্সচেঞ্জটির পর্ষদ। ছুটি ছাড়াই টানা তিনমাস পর্ষদ সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত সভায় তার পরিচালক পদ শূন্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর রমনা থানায় র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের পর চার মাস কারাগারে ছিলেন মিনহাজ মান্নান ইমন। এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে ছাড়া পান। কারাগারে থাকাকালীন তিনি ডিএসইর পর্ষদ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। আবার এ সময় তারপক্ষে ছুটির আবেদন করাও সম্ভব হয়নি। অবশ্য তার স্ত্রী ছুটির আবেদন করলেও সেটি বিবেচনার সুযোগ নেই বলে মনে করছে ডিএসইর পর্ষদ। এ কারণে আইনানুসারে টানা তিন মাস পর্ষদ সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণে তার পদ শূন্য হয়ে গেছে।

রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারের অভিযোগ এনে এ বছরের মে মাসের শুরুতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৫(১) (খ), ৩১ ও ৩৫ ধারায় ঢাকার রমনা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল র‌্যাব। এ মামলায় ৬ মে মিনহাজ মান্নান ইমনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেদিন রাতেই তাকে রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রমনা থানায় র‌্যাবের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয় মিনহাজ মান্নান ইমন হোয়াটস অ্যাপ ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অভিযুক্ত মুশতাকের সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী চ্যাটিং করেছেন।

র‌্যাবের অভিযোগ, এ মামলার অভিযুক্তরা ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ নামে ফেসবুক পেইজ ব্যবহার করে জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস মহামারী সম্পর্কে গুজব এবং রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে নানা অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সমাজে ও রাষ্ট্রে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিলেন। তবে ইমন ও মুসতাকের মধ্যে চ্যাটিংয়ে কী কথা হয়েছে সে বিষয়ে মামলার এজাহারে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

মিনহাজ মান্নান ইমন ছাড়াও র‌্যাবের করা এ মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবীর কিশোর, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী মুশতাক এ মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন- আসিফ মহিউদ্দিন, তাসনিম খলিল, সায়ের জুলকারনাইন, আসিফ ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ, সালেহ আলম ও ফিলিপ শুমাখার।

Add Comment