ডিএসইর ট্রেডিং সিস্টেম ত্রুটিপূর্ণ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেডিং সিস্টেম ত্রুটিপূর্ণ এবং বাড়তি লেনদেনের চাপ নিতে সক্ষম নয়। একইসঙ্গে এক্সচেঞ্জটির ওয়েবসাইটও বেশি দুর্বল। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুততার সঙ্গে নতুন অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) আনার পাশপাশি ওয়েবসাইটে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কমিশনের সঙ্গে ডিএসইর পর্ষদের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। বৈঠকে ডিএসইর ট্রেডিং সিস্টেম ও ওয়েবসাইটের ত্রুটি অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির সদস্যরা তাদের প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে তদন্ত কমিটি ডিএসইর ওয়েবসাইট ও ট্রেডিং সিস্টেমের যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি পেয়েছে সেগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ডিএসইর ওয়েবসাইটটি বেশ পুরোনো। এটি বর্তমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একইসঙ্গে এটি দুর্বলও বটে। তাছাড়া পুঁজিবাজারে লেনদেন সম্পন্নের জন্য যে ওএমএস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় সেটি ত্রুটিপূর্ণ। বাড়তি লেনদেনের চাপ নেয়ার সক্ষমতা নেই সিস্টেমটির। তাছাড়া সিস্টেমটি চালু হয়েছে ৬ বছর হতে চলেছে। এ ধরনের সফটওয়ারের মেয়াদ সাধারণক ৮ থেকে ১০ বছর হয়ে থাকে। ফলে আগামী ২ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ডিএসইর ওএমএস সিস্টেম হালনাগাত কিংবা নতুন সফটওয়্যার আনার ব্যবস্থা করতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে ডিএসইর পর্ষদকে দ্রুততার সঙ্গে নতুন ওএমএস সফটওয়্যার আনতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্রোকারেজ পর্যায়ে ওএমএস সিস্টেম উন্মুক্ত করতে এক্সচেঞ্জটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব ব্রোকারেজের নিজস্ব ওএমএস রয়েছে সেগুলোকে অনুমোদন দেয়ার জন্য ডিএসইকে বলা হয়েছে। আর যাদের ওএমএস সিস্টেম নেই তাদেরকে সেটি সরবরাহ করার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

তাছাড়া এক্সচেঞ্জটির তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যেও ঘাটতি খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এক্ষেত্রে যেসব কর্মকর্তা যেকাজের জন্য উপযুক্ত তাদেরকে সেখানে পদায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। ডিএসইতে এখনো পর্যন্ত কোন আইটি অডিট হয়নি। এ ধরনের অডিট করা হলে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে সেটি অনুধাবন করা সম্ভব হয়। এজন্য নিয়মিতভাবে আইটি অডিট করার সুপারিশ করেছে কমিটি। তাছাড়া ডিএসইর কোন ডাটা রিকভারি সাইট নেই। এর ফলে যে কোন দুর্ঘটনার কারণে ডিএসইর ডাটা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুঁজিবাজারের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যহত করবে। এমনকি পুঁজিবাজারের লেনদেনও বন্ধ হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। ফলে ডিএসইকে দ্রুত ডাটা রিকভারি সাইট স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

ডিএসইর মোবাইল অ্যাপের বিষয়ে তদন্ত কমিটি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ ধরনের একটি অ্যাপ আরো মানসম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল। তদন্তকালীন সময়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে অ্যাপের মানোন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন ওএমএসের সঙ্গে নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

কমিশনের কর্তকর্তারা বলছেন, দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে যে গতি এসেছে তাতে সামনের দিনগুলোতে লেনদেন ও বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ অনেক বাড়বে। তাই বাড়তি লেনদেনে চাপ নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে স্টক এক্সচেঞ্জের। এজন্য তারা ডিএসইর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ডিএসইর পর্ষদও এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তারা উদ্যোগ নিবেন বলে কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন। কমিশনও যে কোন প্রয়োজনে স্টক এক্সচেঞ্জকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

প্রসঙ্গত, এ বছরের ২০ আগস্ট ওয়েবসাইটের উন্নত সংস্করণ চালু করে ডিএসই। সেসময় বলা হয়েছিল, আপডেটেড ওয়েবসাইটটি বিনিয়োগকারী বান্ধব ও অত্যন্ত রেসপন্সিভ হবে। কিন্তু আপডেটেড ওয়েবসাইট চালুর পর থেকেই দেখা দেয় বিপত্তি। ওয়েবসাইটে প্রবেশে সমস্যা, ঠিকমত তথ্য হালনাগাদ না হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসতে থাকে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। তাছাড়া বাড়তি লেনদেনের চাপ নিতে পারছিল না ডিএসইর ওএমএস সিস্টেম। সেসময় লেনদেন সময় বাড়ানোর পাশাপাশি সমস্যার জন্য বিনিয়োগকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিল ডিএসই। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে ২৪ আগষ্ট ডিএসইর ওয়েবসাইট ও ট্রেডিং সিস্টেমের ত্রুটি অনুসন্ধানের জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ও আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মো. আসিফ হোসাইন খান, তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইআইটি) পরিচালক ও অধ্যাপক ড. মো. শরীফুল ইসলাম, বিএসইসির এমআইএস বিভাগের পরিচালক রাজীব আহমেদ, এসআরএমআইসি বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সার্ভিল্যান্স বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম।

Add Comment