ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। দশ বছর ক্লাবের হয়ে খেলে অসংখ্য সাফল্য এনে দেওয়া কেভিন ডি ব্রুইনা ইতিহাদ স্টেডিয়ামে তার শেষ ম্যাচ খেললেন। বোর্নমাউথের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়ার পর, পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল আবেগের বন্যা।
ম্যাচ শেষে ডি ব্রুইনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয় একটি ভিডিও শ্রদ্ধাঞ্জলি, যেখানে তার সাবেক সতীর্থরা—সের্হিও আগুয়েরো, রহিম স্টার্লিং, রিয়াদ মাহরেজ, ফার্নান্দিনহো, ভিনসেন্ট কোম্পানি, জো হার্ট ও লেরয় সানে—তার প্রতি শুভকামনা জানান। এই মুহূর্তে ডি ব্রুইনার চোখে জল দেখা যায়, এবং কোচ পেপ গার্দিওলাও আবেগে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে পড়েন।
গার্দিওলা বলেন, “সবাই সেখানে ছিল। এটি ছিল সত্যিই অসাধারণ। ১০ বছর মানে অনেক ম্যাচ, অনেক শিরোপা, অনেক স্মৃতি। আজকের রাতটা যেন সেই ভালোবাসার সংক্ষিপ্তসার।” তিনি আরও বলেন, “কিছু খেলোয়াড় কখনওই পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়। শুধু গোল কিংবা সহায়তার কারণে নয়—তাদের খেলায় থাকা সংযোগ, আবেগ, এবং ক্লাবের সঙ্গে বছরের পর বছর গড়ে ওঠা সম্পর্ক—এই সবই তাকে অনন্য করে তোলে।”
ডি ব্রুইনা বলেন, “দশ বছর পর মনে হলো—এবার আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেওয়া উচিত। এখন সময় এসেছে বিদায় জানানোর। আমি আবার ফিরব। আমি তোমাদের ভালোবাসি, শিগগিরই দেখা হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি সব সময় এই ক্লাবের ছোট্ট একটি অংশ হয়ে থাকব।”
ম্যানচেস্টার সিটি ঘোষণা দিয়েছে—ইতিহাদ স্টেডিয়ামের বাইরে কেভিন ডি ব্রুইনার একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হবে। এছাড়া, ক্লাবের একাডেমিতে তার নামে একটি রাস্তার নামকরণ এবং একটি মোজাইক স্থাপন করা হয়েছে।
ডি ব্রুইনা ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৪২১ ম্যাচে ১০৮ গোল এবং ১৭৭ অ্যাসিস্ট করেছেন। তিনি ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, পাঁচটি লিগ কাপ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, একটি সুপার কাপ এবং একটি ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরির রেকর্ডে তিনি সেস ফ্যাব্রেগাসের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন—দুজনেরই সুযোগ তৈরির সংখ্যা ৮৪৬টি।
বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে সিটির হয়ে ওমর মারমুশ, বার্নার্দো সিলভা এবং বদলি খেলোয়াড় নিকো গঞ্জালেজ গোল করেন। ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার মাতেও কোভাচিচ এবং বোর্নমাউথের লুইস কুক লাল কার্ড পান। রড্রি চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরেন।
এই আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্তে, ডি ব্রুইনা এবং গার্দিওলার চোখের জল প্রমাণ করে, ফুটবল শুধুমাত্র খেলা নয়—এটি আবেগ, সম্পর্ক এবং স্মৃতির এক অনন্য মঞ্চ।







