দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য ১০০ কোটি করোনার টিকা তৈরি হবে ভারতে

অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত কোয়াড গোষ্ঠীর প্রথম শীর্ষ বৈঠকে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণ করা হলো। চারটি দেশ একজোট হয়ে করোনার টিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় গতি আনতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বোঝাপড়া সুদৃঢ় করার জন্য তিনটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হবে বলে গতকাল শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

২০০৭ সালে গঠিত কোয়াডের এদিনের বৈঠকের উদ্যোক্তা ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগা। ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের প্রভাব বিস্তারকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

নরেন্দ্র মোদি জানান, বৈঠকে টিকা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ও নয়া প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোয়াডের যে উদ্দেশ্য তা ভারতের ‘সারা বিশ্বই একটি পরিবার’—এই বিশ্বাসের সঙ্গে খাপ খায় বলে মোদি জানান। আঠারো মাস আগে কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়েছিল। এবার শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের মাধ্যমে এটা প্রমাণ হলো কোয়াড ক্রমেই পরিণত হচ্ছে বলে দাবি করেন মোদি। অঞ্চলের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা পালন করবে বলে জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

মোদির মতোই বৈঠকে সরাসরি চীনের কথা বলেননি বাইডেনসহ অন্যান্য নেতারা। বাইডেন বলেন, এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইন বলবৎ থাকতে হবে। মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক চারটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বাইডেন জানান। তবে আকারে ইঙ্গিতে চীনের কথা বারবারই উঠে আসে বৈঠকে। এমনকী চীনের আচরণে চিন্তিত হয়ে যে এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে সেটাও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান। বৈঠকে চীনের গতিবিধি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সংঘর্ষের বিষয়টিও বৈঠকে ওঠে এবং অন্যান্য দেশকে এ বিষয়ে ভারত পাশে পেয়েছে বলেই জানা গেছে।

অবশ্য ভারতের পক্ষে থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রিংলা জানান যে, কোয়াড কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। এটি ইতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত। এদিন কোয়াড ভ্যাকসিন পার্টনারশিপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চারটি দেশই নিজের সম্পদ এতে কাজে লাগাবে যাতে বিভিন্ন দেশকে সুলভে টিকা দেওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে আবিষ্কৃত করোনার টিকা উৎপাদন করা হবে ভারতে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা ভারতে উৎপাদন করা হবে। টিকা উৎপাদনের জন্য অর্থ দেবে ইউএস ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি), জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) ইত্যাদি সংস্থাগুলো। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ১০০ কোটি টিকা তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া অর্থ, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং প্রশিক্ষণ দানসহ বিভিন্ন ভারত মহাসাগরীয় ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডে টিকা পৌঁছে দেবে। সস্তায় ঋণ দেবে জাপান। এ ছাড়া ভ্যাকসিন বণ্টন করার কাজে নেওয়া হবে কোভ্যাক্স, ডব্লিউএইচও, গ্যাভি, আসিয়ান প্রভৃতি জোট ও সংস্থার সহায়তা।

তিনটি ওয়ার্কিং গোষ্ঠী তৈরি করার সিদ্ধান্ত এদিন বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো ভ্যাকসিন এক্সপার্ট গ্রুপ—যেখানে বোঝাপড়ার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। আরেকটি হবে পরিবেশ রক্ষাবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ। সেটির মূল লক্ষ্য থাকবে প্যারিস চুক্তিকে বাস্তবায়িত করা। এ ছাড়া নয়া প্রযুক্তিবিষয়ক একটি গোষ্ঠী তৈরি করা হবে, যা ফাইভজি প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন সংক্রান্ত বিষয় বোঝাপড়া করা হবে।

এ ছাড়া চলতি বছর একসঙ্গে বৈঠক করারও অঙ্গীকার করেন চার নেতা। খুব সম্ভবত জি সেভেন সম্মেলনের সময় তাঁদের দেখা হবে।

Add Comment