Home এশিয়া পেসিফিক দাবদাহে বিপর্যস্ত ভিক্টোরিয়া, ছয় দাবানলে আগুন নেভাতে মরিয়া দমকল বাহিনী

দাবদাহে বিপর্যস্ত ভিক্টোরিয়া, ছয় দাবানলে আগুন নেভাতে মরিয়া দমকল বাহিনী

150
0

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভিক্টোরিয়া রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ছয়টি বড় দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পাশাপাশি অন্তত দুটি দাবানল এখন ‘জরুরি’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভিক্টোরিয়ার ক্যাম্পারডাউন ও ওটওয়েজ এলাকায় দাবানলের ভয়াবহতা চরমে। বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ল্যারালিয়া এলাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে উদ্বেগ। আগুন থেকে উড়ে যাওয়া ফুলকি আশপাশে নতুন এলাকা জ্বালিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভিক্টোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে—যা এ অঞ্চলের ইতিহাসে নজিরবিহীন। মেলবোর্নেও তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১ ডিগ্রিতে।


দমকল বাহিনীর যুদ্ধ, কঠিন চ্যালেঞ্জ গরমে

ফরেস্ট ফায়ার ম্যানেজমেন্ট ভিক্টোরিয়ার প্রধান অগ্নিনির্বাপণ কর্মকর্তা ক্রিস হার্ডম্যান বলেন, “এই গরমে দমকলকর্মীদের কাজ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। আগুনের গতিপথ দ্রুত বদলে যাচ্ছে, স্থানীয়দের নিয়মিত সতর্কতা অনুসরণ করতে হবে।”

আগুন নেভানোর কাজ এখনও চলছে, তবে পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দমকল বিভাগ। ভিক্টোরিয়াজুড়ে সম্পূর্ণ আগুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।


জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা: হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিতে জনসাধারণ

তীব্র গরমের প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও। ভিক্টোরিয়া রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রবীণ, শিশু ও যেসব ব্যক্তি আগে থেকেই অসুস্থ, তারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হিট স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সবাইকে ঠান্ডা পরিবেশে থাকার, পর্যাপ্ত পানি পানের এবং হিট স্ট্রোকের উপসর্গ—যেমন মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘাম বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


সতর্ক দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াও, পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রস্তুতি

দাবানলের ঝুঁকি শুধু ভিক্টোরিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াকেও ‘চরম’ ঝুঁকির সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সেখানেও দমকল বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং জরুরি অবস্থা কার্যকর করা হতে পারে।

যদিও এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি, প্রাথমিকভাবে কিছু ঘরবাড়ি ও বনভূমি আগুনে পুড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। দমকল বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন চরম দাবদাহ ও দাবানল পরিস্থিতি ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। জনসাধারণকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here