Home Melbourne-BD দাবানলের ভয়াবহ রূপ

দাবানলের ভয়াবহ রূপ

104
0

অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে পুড়ছে কোয়ালা, ক্যাঙারু। পুড়ছে কাঠবিড়ালি। কত কত পাখির মার্সিয়া জারি শুনছি। হাহাকার, দাউদাউ জ্বলছে চারদিক। আকাশ যেন সিঁদুররঙা। বাতাসে আগুনের ফুলকি উড়ছে। মানুষের অসহায় চোখে আতঙ্ক খেলা করছে। কোটি কোটি জীবজন্তুর আর্তনাদ আগুনের লেলিহান শিখা গিলে খাচ্ছে। পরিস্থিতি সামলে নিতে নিতেই আবার পুড়ছে আরেক অঞ্চল।

পত্রিকা, টিভি নিউজ, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া—সবখানেই আগুন আগুন চিৎকার।

কিছুদিন আগে শিখা অনির্বাণের মতো জ্বলেই গেল আমাজন। পৃথিবীজুড়ে চলছে প্রকৃতির বিরূপতা। প্রকৃতি রুষ্ট হয়েছে। কেন রুষ্ট হলো প্রকৃতি, আমরা কি তা জানতে পারছি? নাকি ওসব বিজ্ঞান আর ভূগোলের ব্যাপার বলে ছেড়ে দিয়ে দিব্যি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছি…‘সো স্যাড, অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল, আমাজন পুড়ছে!’

ব্যস, এটুকুই!

জেনে নিই দাবানল আসলে কী। দাবানল (wildfire) হচ্ছে বনভূমি বা গ্রামীণ এলাকার বনাঞ্চলে সংঘটিত একটি অনিয়ন্ত্রিত আগুন। পাহাড়ি অঞ্চলে দাবানলের ইন্ধন কিছু বেশি। উষ্ণ তাপশিখা ক্রমে ওপরের দিকে উঠতে থাকে আর পোড়াতে থাকে বন।

উঁচু গাছের ক্যানপির আগুন অনায়াসে উড়তে থাকে যত্রতত্র। এসব আগুন নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, আগুন থামানোর জন্য সহজে কোনো ব্ল্যাঙ্ক করিডর তৈরি করা যায় না, যেখান থেকে সরিয়ে ফেলা যায় স্তূপ, ঝরা পাতা, ভেষজ দাহ্যবস্তু।

অতএব যতক্ষণ খুশি আপনমনে জ্বলতে থাকে আগুন। জ্বলতে জ্বলতে যখন খাদ্যের প্রচণ্ড অভাব হয়, কেবল তখনই মরে যায়। দুর্ভিক্ষে মরার মতোই।

মাটি পুড়ে টেরাকোটা হয়ে যায়। হারিয়ে ফেলে দরকারি জল শোষণের ক্ষমতা। এমন দগ্ধ মাটির ওপর যখন ঝুম বৃষ্টি নামে, তখন এসব আলগা পোড়ামাটি আর কাদা ধুয়ে সমানে নামতে থাকে পাহাড়ের গা বেয়ে। নামতে নামতে পাদদেশে গড়ে তোলে কদর্য বিপুল পাহাড়, যে পাহাড় সরানো সহজ কাজ নয়।

এখন এই দাবানলের কবলে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। মনে হয়, জাহান্নামের উল্কা মাটি ভেদ করে দাবানল আকারে পশ্চিম দিগন্তে ঝরে পড়ছে। দাবানলের কবলে পতিত হয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপদগুলোর নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এযাবৎ পাওয়া খবরে ১৮ জন মানুষ মারা গেছে এবং ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে সক্রিয় হয়ে আছে এই দাবানল বা আগুন–ঝড়। ভস্মীভূত এক কোটি একর এলাকা। ফায়ার সার্ভিসের আড়াই হাজার কর্মী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

দাবানলের ভয়ংকর শিখা নির্দিষ্ট এলাকায় এমন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে যে তা আশপাশে, এমনকি আকাশসীমার অনেক ওপর পর্যন্ত চলে গেছে। এ কারণে বিমান, হেলিকপ্টার পর্যন্ত এর ওপর দিয়ে উড়াল দিতে আতঙ্কিত হচ্ছে। অবস্থা এতই শোচনীয় আকার ধারণ করেছে যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও দ্রুত সর্বসংহারী দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ব্যর্থ হয়ে পড়েছে।

আসলে আগুন নাকি জাহান্নামের অংশ, তা এই দাবানল দেখেই অনুমেয় হয়। প্রকৃতির এসব বিপর্যয় নিয়ে, তথা ক্লাইমেট নিয়ে কত রিপোর্টই তো পড়ছি রোজ রোজ। কত গবেষণা, কত তথ্য। সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি বিজ্ঞানী প্যানেল হুঁশিয়ার করেছে, মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন দ্রুত হারে সাগরপৃষ্টের উচ্চতা বাড়ছে এবং বরফ গলছে। সেই সঙ্গে জীবজন্তুর বিভিন্ন প্রজাতি তাদের আবাসস্থল বদলাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফের আচ্ছাদন বিলীন হওয়ার কারণে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে পরিস্থিতি দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে। আইপিসি বা জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলের সাম্প্রতিক একটি বিশেষ রিপোর্টে এসব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

গত এক বছরের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে এটি নাকি তাদের তৃতীয় রিপোর্ট।

সর্বশেষ এই রিপোর্ট পড়ে জানলাম তাপমাত্রার বাড়ার কারণে সমুদ্র ও বরফে আচ্ছাদিত অঞ্চলের ওপর তার প্রভাব কী হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এবার যা পেয়েছেন, তা আগের রিপোর্টগুলোর তুলনায় নাকি অনেক বেশি ভীতিকর।

খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে সাগরপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে, বরফ গলছে দ্রুতহারে এবং এর প্রভাব পড়ছে পুরো বিশ্বের প্রাণিজগতের ওপর।

‘ব্লু প্ল্যানেট (পৃথিবী) এখন মহাসংকটে। বিভিন্ন দিক থেকে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এর জন্য আমরাই দায়ী।’ বলছেন ড. জ্যঁ পিয়ের গুত্তুসো, যিনি এই রিপোর্টের প্রধান প্রণেতা।

মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশে যে বাড়তি তাপ তৈরি হচ্ছে, তার ৯০ শতাংশই শুষে নিচ্ছে সাগর। ১৯৯৩ সাল থেকে শুষে নেওয়ার এই মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে।

সেই সঙ্গে গলছে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফ। বাড়ছে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতাও। ড. গুত্তুসো বলছেন, ‘নিচু জায়গাগুলোয় সাগরের উচ্চতা বাড়ার পরিণতি হবে ব্যাপক। ৭০ কোটি মানুষ এ রকম নিচু উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। ফলে বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।’

রিপোর্টে সাবধান করা হয়েছে, সাগরে তাপ বাড়ায় আবহাওয়া দিন দিন বিপজ্জনক আচরণ করবে। সামুদ্রিক ঝড় বেশি হবে, জলোচ্ছ্বাস বাড়বে। ‘আমরা নজিরবিহীন কিছু বিপদের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি,’ বলছেন আইপিসিসি প্যানেলের অধ্যাপক ডেরা রবার্টস।

‘আপনি যদি স্থলভাগের খুব ভেতরেও বসবাস করেন, তাহলেও সাগরের জলের উচ্চতা ও পরিবেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনি নিরাপদে থাকতে পারবেন না।’

যেভাবে আপনার জীবনযাপন প্রভাবিত হতে পারে, বন্যার ক্ষতির মাত্রা দুই থেকে তিন গুণ বাড়তে পারে। সাগরের তাপমাত্রা বাড়ায় ৯০ শতাংশ প্রবাল বিলীন হয়ে যেতে পারে।

সাগরের তাপমাত্রার বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে মাছ ও জলজ উদ্ভিদের ওপর। মাছের শরীরে ভেতর পারদের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কী ভয়ংকর, বাপ রে!

এত কিছু শোনার পর মনে হয়, এই বিপদের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কি কোনো সম্ভাবনা নেই? যাকে বলি এতটুকু আশা!

কিছু আশাবাদ তো অবশ্যই রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে সাগরের ভবিষ্যৎ এখনো আমাদের হাতে রয়েছে।

কিন্তু তার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে এখনকার তুলনায় কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমপক্ষে ৪৫ ভাগ কমাতে হবে।

চেষ্টা করলে আমরা কমাতেই পারি। কিন্তু তার জন্য লাগবে সৎ মনোভাব। এমন চলতে থাকলে কার্বন নির্গমনের মাত্রা অনেক কমালেও চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা চ্যালেঞ্জিং হবে।

তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর জন্য রাজনীতিকদের ওপর জনগণের চাপ বাড়ানো খুবই জরুরি।

হায়রে ভাগ্য সাধারণ মানুষের, কাদের দিচ্ছি খাজনার খবর!

রাজনীতিকেরা যদি সৎ ও চিন্তাশীল হতেন, তবে আর এই দিন দেখতে হয়! আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা পঙ্গু বানিয়ে যাচ্ছি।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি আমাদের অনেকের কাছেই কাঠখোট্টা বিজ্ঞান মনে হয়। এ কারণে বন্যা, খরা, ঝড়, নদীভাঙন, মহামারি আর বিপন্ন জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক খুঁজতে আমরা বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হই।

কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনই ২১ শতকের সবচেয়ে বড় স্টোরি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। সমাজের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে তাদেরই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভবিষ্যতে আরও হবে। কিন্তু লাভবান হয় সম্পদশালী ভোক্তাশ্রেণি, জ্বালানি কোম্পানি, ভারী শিল্প, পরিবহন ও কাঠের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো। অথচ এরাই সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস ছড়ায়।

পরিবেশদূষণের জন্য আমাদের আর সবার চেয়ে তারাই বেশি দায়ী। ওদের বিচার করবে কে শুনি? তারাই উকিল, তারাই আদালত, তারাই আইন!

সত্যি বলছি, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর নিছক পরিবেশের বিষয় নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন জড়িত।

আমরা বেশির ভাগ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়কে নিতান্তই পরিবেশের বিষয় বলে মনে করে এসেছি। বারবার নিজেদের বুঝিয়েছি বিজ্ঞানের বিষয়। এখন আর সেই অস্পষ্টতা নেই মানুষের মধ্যে। এখন বিষয়টিকে অবধারিত এক বৈশ্বিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়, যা অর্থনীতি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, খাবারের জোগান, এমনকি রাজনীতি পর্যন্ত—আমাদের জীবনের প্রতিটি দিককে কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত করছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকের মতে, ‘আমাদের সময়ে সবচেয়ে জরুরি স্টোরি এগুলোই।’ এসব নিয়ে কোথাও কোথাও অনুসন্ধান হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই তা অনুপস্থিত।

নেটে একটা ফিচারে পড়লাম সেদিন। বিশ্বের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত নাকি কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হয়নি। ভাবা যায় ব্যাপারটা। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে সৌদি আরামকো, সিনোপেক, চীনা ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম, কুয়েত পেট্রোলিয়াম। এমনকি তাদের চেয়েও বড় প্রতিষ্ঠান লুকঅয়েল, টোটাল ও এনির কথা, যারা নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়েও রাষ্ট্রগুলোয় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

এসব তথ্য মানুষের জানা উচিত। অবশ্যই জানা উচিত এসব প্রতিষ্ঠান বা তাদের অ্যাসোসিয়েশনগুলো নিজেদের পছন্দমতো আইন প্রণয়ন, সরকারি ভর্তুকি আর নীতিমালার জন্য কোথায় তদবির করছে এবং দিন দিন ফুলেফেঁপে প্রকৃতি ধ্বংস করে শান্তিতে কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমাচ্ছে! কাদের তুষ্ট করে মৌমাছি মেরে মধুটুকু টুপ করে বোতলে ভরেছে।

এটাও জানতে পারলাম কিছু ফিচার পড়ে, তারা কীভাবে টিকে আছে বেপরোয়াভাবে। রাজনীতিবিদকে টাকা দিচ্ছে; কীভাবে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে; জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে আনা আইন ঠেকিয়ে দিচ্ছে; পরিবেশবিরোধী গ্রুপগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে অগ্রাহ্য করছে।

তো প্রকৃতির হিসাব তো প্রকৃতি নেবেই।

মানুষ মানুষকে ছাড় দিলেও প্রকৃতি কাউকে ছাড় দেয় না। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে নতুন আর্থিক সংকট জন্ম দিতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদমূল্য নির্ধারিত হয় তাদের খনিতে কত তেল-গ্যাস বা কয়লা মজুত আছে, এর ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এড়াতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানি মজুতের একটি বড় অংশই অব্যবহৃত সম্পদ হিসেবে মাটির নিচে রেখে দিতে হবে, কখনোই তোলা যাবে না। এমনটি হলে এসব প্রতিষ্ঠানের শুধু যে সম্পদ কমে যাবে তা নয়, বরং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য তাদের তৈরি পণ্যকে দায়ী করা হতে পারে। রোজ রোজ কত–কী জ্বালিয়ে–পুড়িয়ে প্রকৃতিকে নাকাল বানিয়ে ফেলছি।

যেমন কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি, গ্যাস পোড়ানো, গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলো ইদানীং বেশি মিথেন গ্যাস নির্গমন করছে, রাসায়নিক সার তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়াতে হয়। এটি বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অন্যতম প্রধান উৎস। এ ছাড়া গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের যেসব বন একসময় কার্বন শোষক হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যারা কার্বন ধরে রাখত, তাদেরও উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে গবাদিপশু পালন এবং সয়াবিন (বিশেষ করে আমাজন) ও পাম চাষের মাধ্যমে (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়)।

যা হোক, অনেক গবেষণা, সাংবাদিকদের কলাম থেকে তথ্য নিয়ে এই লেখার যবনিকাপাত করতে করতে ভাবছি, ছোটবেলায় পড়েছিলাম দাবানলের দেশ অস্ট্রেলিয়া…আর শিলাঝড়ের রাজধানী সিডনি। এখন যখন নিজেই এই দেশের পাকাপাকি নাগরিকত্ব পেয়ে অজি অধিকারে অধিকারী হয়েছি, তেমনি এই দেশটার ভালো–মন্দ, বিপদ–আপদ, দাবানল, বন্যা-খরা-শিলা-ভূমিকম্প, সব প্রাকৃতিক দুর্যোগকে স্বভাবতই আপন করতেই হয়। সুখে যেমন হাসি দুঃখেও কেঁদে বুক ভাসাই।

সেদিন আমার দুই শিশুসন্তানসহ টিভিতে দেখছিলাম, বুশ ফায়ারে নিহত ফায়ার ক্রুর ছেলেকে যখন বাবার বীরত্বের সম্মান দেওয়া হচ্ছিল, তারা বুকভেঙে কান্না করছিল। ১৯ মাস বয়সী হার্ভি কিটন গত বৃহস্পতিবার তার বাবার মরণোত্তর পুরস্কার গ্রহণ করে, যে পুরস্কারটি দেওয়া হয় তার বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে।

সে সময় কিটনের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার দেন দমকলকর্মীরা।

১৯ ডিসেম্বর আগুন নেভাতে যাওয়ার পথে গাড়িতে গাছ পড়লে কিটন ও তার সহকর্মী অ্যান্ড্রু ও’ডোয়াইয়ার মারা যান।

অ্যান্ড্রু ও’ডোয়াইয়ারেরও একটি শিশুসন্তান রয়েছে, আগামী সপ্তাহে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের দমকল বিভাগের কমিশনার শেন ফ্রিটজসিমন্স শিশু হার্ভি কিটনের হাতে তার বাবার সাহসিকতার পুরস্কার তুলে দেন। এমনি করেই মানুষ মানুষের জন্য মৃত্যু আলিঙ্গন করে, প্রকৃতির পশুপাখির মৃত্যুর জন্য বিলাপ করে। প্রকৃতিও কেড়ে নেয় যেমন, তেমন ফিরিয়েও দেয় দুই হাতভরে।

এ জন্যই বলে বুঝি, ‘ইউ লুক আফটার মাদার নেচার, অ্যান্ড মাদার নেচার উইল লুক আফটার ইউ।’

তথ্যসূত্র: বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ফিচার, উইকিপিডিয়া ও অন্য সূত্র থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here