নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর: হাজী সেলিমের বাড়ি থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফানকে আটক করেছে র‍্যাব

ঢাকায় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর র‍্যাব বলছে, ঢাকার একজন সংসদ সদস্যের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত ইরফান সেলিমসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

ইরফান সেলিম ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

আটক অপর ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ জাহিদ।

এদেরকে ধরবার জন্য দুপুর থেকে হাজি সেলিমের বাড়িটিকে ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান এখনো চলছে।

র‍্যাবের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিব বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্তদের ‘সাময়িকভাবে র‍্যাবের হেফাজতে’ নেয়া হয়েছে।

মারধরের শিকার লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম আহমদ নামে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা সোমবার সকালে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় আসামীদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ইরফান সেলিমের নাম।

ধানমন্ডি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আশফাক রাজীব হাসান বলছেন, মামলার এজাহারে আসামীদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পথরোধ করে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা আসামীদের মধ্যে ইরফান সেলিম ছাড়াও এবি সিদ্দিক দিপু, মোহাম্মদ জাহিদ এবং গাড়ি চালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করা আছে। এছাড়া ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামীর কথাও বলা আছে।

গাড়ি চালক মিজানুর রহমানকে আগেই আটক করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল:
মামলার এজাহারে বেআইনিভাবে পথরোধ, সরকারী কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগের কথা বলা হলেও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে মোটরসাইকেল আরোহী ওই নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর করা হয় রবিবার রাতে।

খবরে বলা হচ্ছে, তিনি সস্ত্রীক মোটরসাইকেলযোগে ফিরছিলেন। এসময় একটি গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগার পর গাড়িটি থেকে অভিযুক্তরা নেমে এসে ওই কর্মকর্তাকে মারধর করেন।

এমনকি তিনি নিজের পরিচয় দেয়ার পরও অভিযুক্তরা মারধর অব্যহত রেখেছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।

গাড়িটিতে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো ছিল বলে খবরে বলা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে এরইমধ্যে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি তার উপর হওয়া হামলার বর্ণনা দিচ্ছেন।

তিনি বলছেন, তাকে বিনা কারণে একতরফাভাবে আঘাতের পর আঘাত করা হয়। এতে তার একটি দাঁতও ভেঙ্গে যায়।

তার স্ত্রীর গায়েও হাত তোলা হয়েছে বলে ভিডিওতে তিনি দাবি করেন।

এই ভিডিওটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তবে বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে ভিডিওর এই ব্যক্তিকে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম আহমদ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সকালে ইরফান সেলিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

হাজী সেলিমের মোবাইলে যোগাযোগ করা পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে অপর প্রান্ত থেকে ফোন কেটে দেয়া হয়।

পরে তার নম্বরে এসএমএস পাঠানো হলেও কোন ফিরতি জবাব আসেনি।

Add Comment